পিআর-টিআর মানুষ খায়ও না, বিশ্বাসও করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আজ শনিবার দুপুরে জামালপুর শহরের বেলটিয়া এলাকায় জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি হচ্ছে ভোট দিবো সন্দীপে, আর প্রার্থী থাকবে মালদ্বীপে। এইটার নাম হচ্ছে পিআর পদ্ধতি। পিআর-টিআর মানুষ খায়ও না, পরেও না, বিশ্বাসও করেন না। এসব শর্ত যারা দেয়, তারা কিন্তু খুব সুপরিচিত।’
টুকু বলেন, ‘শেখ হাসিনার পুঁজি ছিল একাত্তর, তাঁর পুঁজি ছিল মুক্তিযুদ্ধ। এই একাত্তর ছিল মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গর্বের ধন। এই একাত্তর ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান, এই একাত্তর ছিল আমাদের মানচিত্র, এই একাত্তর ছিল আমাদের পতাকা, এই একাত্তর ছিল আমাদের শাসনতন্ত্র। সেইটারে খায়া-খুয়া এমন একটা পর্যায়ে আনছিল যে আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল, তারা মুক্তিযুদ্ধকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে। এই শেখ হাসিনার জন্য এটা হয়েছে।’
টুকু বলেন, ‘এখন একটা শ্রেণি বের হয়েছে, বলার চেষ্টা করে এটা দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আমি খুব পরিষ্কার করে একটা কথা বলি, সন্তান একবার জন্মগ্রহণ করে, জন্ম তারিখ একটাই হয়, দুইটা হয় না। মুক্তিযুদ্ধ যে স্বাধীনতা এনেছে, সেটাই স্বাধীনতা। যে মুক্তিযুদ্ধ মানচিত্র দিয়েছে, সেটাই স্বাধীনতা; দ্বিতীয় স্বাধীনতা হতে পারে না।’
২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে টুকু বলেন, ‘২৪-কেও বিক্রি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি চাই না একাত্তরের মতো ২৪-কেও কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করুক। একাত্তরে মানুষ জীবন দিয়েছে, ৯১ এ মানুষ জীবন দিয়েছে, এবারও মানুষ জীবন দিয়েছে। প্রত্যেকটা জীবন মূল্যবান। কোনো জীবনকে একটা থেকে ছোট করা যাবে না।’
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
সম্মেলনে সভাপতিত্বে করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
কমিটিতে জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন আবারও জায়গা করে নেন। এছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে লোকমান আহম্মেদ লটন, সহ-সভাপতি পদে শামীম আহম্মেদ, ফরিদুল হক খান দুলাল, লিয়াকত আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সোহবার হোসেন পল্টন, মোস্তাফিজর আরমান আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ফিরোজ মিয়া, শফিকুল ইসলাম খান সজিব ও আরিফ হোসেন খান বাহাজ জায়গা পান।
এর আগে ২০১৬ সালে শহরের সিংহজানী উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে জামালপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।



