তেল, গ্যাস আর কয়লা থেকে দেশের প্রায় ৯৭ ভাগই জ্বালানী উৎপাদন হয়। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর হওয়ায় এখাত থেকে উৎপাদন হচ্ছে কার্বন, মিথেন, সালাফার, কপারের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য। যা পরিবেশের যেমন ক্ষতি করছে, তেমনি বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ম্যানিফেস্টু টক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।
ফসিল ফুয়েল টু রিনিউবল এনার্জি অ্যান্ড জাস্ট ট্রান্সিশন বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানীর ক্ষতি সাথে সাথে দেখা যায় না। প্রতিটি সেক্টারেই এর প্রভাব পড়ছে। জীবাশ্ব জ্বালানী থেকে নির্গত কার্বন বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে কৃষি, খাদ্য, মৎস্যসহ প্রতিটি খাতে। স্বাস্থ্য ঝুকিও বাড়িয়ে তুলছে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত ব্লাক কার্বন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্য ঝুকিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রভাব কমাতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতটিকে নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব সহকারে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে গুরুত্ব দিতে হবে।
নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন মুর্শীদ বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার কমাতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তরুনরাই পারবে এই সংকট থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে। তরুণদের জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে। সরকারের পরিকল্পনার সাথে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানী খাত বেশিভাগই আমদানি নির্ভর। এই খাত নিয়ে আর্ন্তজাতিক একটি রাজনীতি রয়েছে। কাজেই জ্বীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার খুব সহজেই কমিয়ে ফেলা যাবে না।’
মাহদী আমীন বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতটি নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব সহকারে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কীভাবে নবায়নযোগ্য খাতে যাওয়া যায়, তা নিয়ে পরিকল্পিত রোডম্যাপ রাখবে বিএনপি। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস হয় এমন কোনো এজেন্ডা ইশতেহারে রাখবে না বিএনিপ। সবুজ বাড়াতে এরই মেধ্য বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি।’
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘তরুণদের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে হলে জীবাশ্ব জ্বালানি ব্যবহার কমানোর বিষয়টি আমলে নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বদিচ্চাই পারে এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে। নির্বাচনী ইশতেহারে জীবাশ্ব জ্বালানি কমানোর ক্ষেত্রে একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা রাখা হবে।’ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নেট জিরোতে আসতে কত বছর লাগতে পারে এমন একটি রোডম্যাপ রাখা হবে বলে তরুণদের প্রতিশ্রুতি দেন বজি হাজ্জাজ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জয়েন্ট কনভেনর জাভেদ রাসিন বলেন, তেল-গ্যাস-কয়লা দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। চাইলেই এসব প্রতিষ্ঠান দিনে দিনে বন্ধ করা যাবে না। তবে এনসপি পরিবেশ সুরক্ষা রেখে নির্বাচনী ইশতেহার দিবে বলে প্রতিশ্রতি দেন তরুণ এই নেতা।
দেশে জ্বালানি খাত নিয়ে নীতিমালা থাকেলও বিগত সরকার তার কোনো তোয়াক্কা করেনি বলে জানান পরিবেশ কমীরা। কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই পরিবেশ ধ্বংসকারী সব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছ। রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের সময় সমীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আগামীতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক প্রতিটি দলকেই নির্বাচনী ইশতেহারে জ্বালানি খাত নিয়ে সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা রাখার দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা।



