গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মামুনুল হক বলেছেন, ‘যদি কেউ ভোট চুরি করার দূরভিসন্ধি আঁটে, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জাল ভোট দেওয়ার একটা পাঁয়তারা হচ্ছে। আমাদের কাছে সংবাদ আছে, তারা মৃত মানুষ, বিদেশে আছে, এখানকার ভোটার অন্য জায়গায় থাকে, তাদের তালিকা তৈরি করছে। অতীতে নাকি নির্বাচনের সময় কবরস্থান থেকে মৃত মানুষ এসে ভোট দিয়ে গেছে। তাই প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রের কাছে জনপ্রাচীর গড়ে তুলবেন, যাতে কবরস্থান থেকে কোনো মৃত ব্যক্তি এসে ভোট দিতে না পারে। পোলিং এজেন্টদের বলব, কোনো মৃত ব্যক্তি যদি ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে আসে, তাহলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করবেন।’
সোমবার দুপুরে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের পাশে গোপালগঞ্জ সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনের সামনে এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রশাসনের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশা করি। বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অগ্রযাত্রা থামানোর ষড়যন্ত্র চলছে। যদি নির্বাচন কমিশন এসব ভয়ভীতি ও হুমকিমূলক কার্যক্রম প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশ ব্যর্থতার দিকে যাবে। তাই এত রক্তপাত ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’
১১ দলীয় নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই জোট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত হয়নি। ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বৈষম্য দূর করা, শোষণ ও অতীতের জুলুম থেকে মুক্ত করে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে।’
তিনি বলেন, ‘জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে আমরা অঙ্গীকার করেছি—যার প্রাপ্য তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রকৃত অপরাধীরা যেমন রেহাই পাবে না, তেমনি নির্দোষ নেতাকর্মীদের হয়রানি করে মামলা বাণিজ্যও চলতে দেওয়া হবে না।’
পথসভায় তিনি রিকশা প্রতীক প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিকশা মেহনতি মানুষের প্রতীক। এটি গরিব-দুঃখী ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপার্জনের শেষ ভরসা। রাজনৈতিক অস্থিরতায় যানবাহন বন্ধ হয়ে গেলে ধনী-গরিব সবাইকেই রিকশায় চড়ে বাড়ি ফিরতে হয়।’
মামুনুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর মানুষ যে শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, ৫৪ বছরেও তা পূরণ হয়নি। তবে ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর নতুন প্রজন্ম আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বৈষম্য, গুন্ডামি, মাস্তানি ও সন্ত্রাসের রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সুন্দরবন থেকে বান্দরবান—সারা দেশে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। সেই জাগরণের ঢেউ গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে, যার ফলে পথসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।’
শেষে তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন, কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি গোপালগঞ্জবাসীকে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
পথসভায় বাংলাদেশ শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মো. সরফত হোসেন, গোপালগঞ্জ-২ আসনের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মো. শুয়াইব ইবরাহীম এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আজিজ (মাক্কী) বক্তব্য রাখেন।
এ সময় গোপালগঞ্জ-২ ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।



