আজ সেই প্রতিক্ষিত নির্বাচন। একটা পরিবর্তন! সেই আশাতেই সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি কমলা হ্যারিস, সেটা নির্ধারণ করবে আমেরিকার ভোটাররা। এবারের নির্বাচন বিগত দিনের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। মোট ৫৩৮টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে যিনি ২৭০টি ভোট পাবেন, তিনিই হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। যিনি আগামী ৪ বছরের জন্য হবেন হোয়াইট হাউসের অধিকর্তা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা মনে করে, ট্রাম্প জিতলে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের গণহত্যা বন্ধ হবে। গত মেয়াদে যখন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন সারা বিশ্বে কোনো যুদ্ধ ছিল না। তিনি যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছেন। সেসময় আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল ভালো। কাজকর্মের সংস্থান ছিল। বর্ডার নিরাপদ ছিল। অবৈধ অভিবাসী আগমন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। দেশের বেকারের সংখ্যা ন্যূনতম ছিল।
অন্যদিকে যারা কমলা হ্যারিসকে ভোট দেবে তাদের বক্তব্য হচ্ছে– ডেমোক্রেটরা সব সময়ই অভিবাসীদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। দলটি বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমুখী কাজে অবদান রাখে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির কল্যাণে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া জলবায়ুসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কল্যাণমুখী কাজে অংশ নেয়। তাই তারা কমলা হ্যারিসকে ভোট দেবেন। তাদের বিশ্বাস আমরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হবেন কমলা হ্যারিস। তাঁর নের্তৃত্বে বিশ্ব এক নতুন আমেরিকা দেখতে পাবে। তবে সাধারণ ভোটাররা এবার নির্বাচনে যে বিষয়গুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সেগুলো হলো– অর্থনীতি, অভিবাসন, গণতন্ত্রের হুমকি, স্বাস্থ্য, হাউজিং, শিক্ষা, অপরাধ, গর্ভপাত বিষয়ক আইন। এছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও ভোটাররা গুরুত্ত্ব দিয়ে দেখছে।
আমেরিকার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলো জয় পরাজয় নির্ধারণ করবে সেগুলো হলো– মিশিগান, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নাভাদা, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভেনিয়া ও উইসকনসিন। এই ৭টি রাজ্যে রয়েছে ৯৩টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট। এই ৭ রাজ্যে যিনি জিতবেন, তিনিই হবেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। এবার চলুন দেখি এই ৭টি অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ নির্বাচন পরিস্থিতি।
গত রোববার ৩ নভেম্বরের নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনার চালানো জরিপে দেখা যায়, দুজন প্রার্থীই ন্যূনতম ব্যবধানে কোথাও এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছেন। অ্যারিজোনায় ৩ নভেম্বরের জনমত জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প ১.৬ শতাংশ সমর্থন পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এখানে ১১টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। জর্জিয়ায় ট্রাম্প ১.২ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন, এখানে ১৬টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। একই জরিপে দেখা যায়, মিশিগানে কমলা হ্যারিস ১.৫ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন, এখানে ১৫টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।
৩ নভেম্বরের সর্বশেষ জনমত জরিপে নাভাদায় ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন ০.৬ শতাংশ, এখানে ৬টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনায় ১.২ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প, এখানে ১৬টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। পেনসিলভেনিয়ায় ৩ নভেম্বরের সর্বশেষ জনমত জরিপে ০.১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প, এখানে ১৯টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। উইসকনসিনে ০.৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন কমলা, এখানে ১০টি ইলোকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।
অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোর চেয়ে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলো জয়–পরাজয় নির্ধারণ করবে বলে প্রার্থীরা এসব অঙ্গরাজ্যে একাধিকবার সভা, সমাবেশ করেছেন। গতকাল রোববার ৩ নভেম্বর কমলা হ্যারিস মিশিগানের ডেট্রয়েট, পন্টিয়াক ও ইস্ট ল্যান্সিংয়ে সভা সমাবেশ করেছেন। ইস্ট ল্যান্সিংয়ের সমাবেশে তিনি আরব আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে গাজায় যুদ্ধে মানবিক বিপর্যয়ের কথা বলেন এবং বিজয়ী হলে যুদ্ধ বন্ধে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
সোমবার রাতে ট্রাম্প মিশিগানে গ্রান্ড রেপিডের সমাবেশে ভাষণ দেন। এর আগেও তিনি এখানে একাধিকবার এসে নির্বাচনী সমাবেশ করে গেছেন। এই প্রথমবার মিশিগানে আগাম ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনের ৯ দিন আগে থেকেই ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন।
মিশিগানে আনুমানিক ৭২ লাখ সক্রিয় রেজিস্টার্ড ভোটার রয়েছে। তবে ৭৯ লাখ মানুষ রয়েছে, যাদের ভোট দেওয়ার বয়স হয়েছে।



