মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন করেছে আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। সন্ধ্যায় দূতাবাসের ‘বিজয় একাত্তর’ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় তুরস্কে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা এবং আনন্দোৎসবের।
আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুষ্ঠানে তুরস্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্বস্তরের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল। তাদের মধ্যে ছিল তুরস্কের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা, আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত গবেষকরা, বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, প্রবাসী সাংবাদিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা।
অতিথিদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি মোটিভেশনাল ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক, দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. শফিক উদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের পর পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন তুরস্কের সিগমা তুর্কিয়ে ইনডিপেনডেন্ট সিরার্চ সোসাইটি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাটিক ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহমেত দোগান। তিনি বলেন, ‘তুরস্ক এবং বাংলাদেশ যৌথ উৎপাদন, পণ্যের মূল্য সংযোজন, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার অনেক সুযোগ রয়েছে।’
পরে উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলোচ্য বিষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত প্রধান বক্তা মেহমেত দোগানের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।
রাষ্ট্রদূত মো. আমানুল হক বক্তব্যে বলেন, ‘বিজয় দিবস জাতীয় গৌরবের প্রতীক এবং স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন।’
রাষ্ট্রদূত মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে মিশনের উদ্যোগে এবং অনলাইন বাংলা স্কুল, আঙ্কারার সহযোগিতায় আয়োজিত ‘সুন্দর কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৫’ এর ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিথযশা শিল্পী এবং সংগীত পরিচালক নীল কামরুল, কমিউনিটির সদস্য কাজি মহিউদ্দিন তাকি, শৌভিক দাস এবং নিশাত নিশি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। এছাড়া দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
পরিশেষে রাষ্ট্রদূত মো. আমানুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রবাসীদের বিজয় দিবসে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।



