নিজেদের বিজনেস মডেলে আর কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস। এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মেটার এমন সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপে নিশ্চিতভাবেই বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে এই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট।
অর্থ বা সম্মতি প্রদানের (পে অর কনসেন্ট) যে বিজনেস মডেলটি মেটা অনুসরণ করে থাকে সেটি আগের মতোই চলমান রাখতে যাচ্ছে তাঁরা। ফলে ইউরোপের বাজারে অ্যান্টিট্রাস্ট আইনে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানা গুণতে হতে পারে মেটাকে। তবে এমন আশঙ্কা থাকা স্বত্বেও নিজেদের ‘পে অর কনসেন্ট’ মডেলে আর কোনো পরিবর্তন আনবে না তাঁরা- এমনটাই জানাচ্ছে রয়টার্সের প্রতিবেদন।
গত মাসে মেটা জানিয়েছিল যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডিজিটাল মার্কেট আইন মেনে চলার স্বার্থে নিজেদের বিজনেস মডেলে সীমিত আকারে যেটুকু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন তাঁরা সেটুকুই আনবে- এর বেশি নয়। এরপর ইউরোপিয়ান কমিশন স্পষ্ট করেই মেটাকে জানায় যে, এমনটা করলে প্রতিদিন বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানা দিতে হবে তাঁদেরকে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২০০ মিলিয়ন ইউরো বা ২৩৪ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয় ইউরোপের বাজারে। এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়, মেটার ‘অর্থ বা সম্মতি প্রদান’ (পে অর কনসেন্ট) বিজনেস মডেলটি ইউরোপের ডিজিটাল মার্কেট আইন লঙ্ঘন করেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইনটি চালু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে মেটা এই আইনটি লঙ্ঘন করেছে বলে জানায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।
ইউরোপে ডিজিটাল মার্কেট আইনটির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রযুক্তি বাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিপত্য রোধ করা। এ লক্ষ্যে তাঁরা বেশ কিছু নিয়মাবলী প্রণয়ন করেছে- যেগুলো সকল প্রতিষ্ঠানের জন্যই মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
নিজেদের বিজনেস মডেলে কিছুটা পরিবর্তন তাঁরা এনেছে গত বছরের নভেম্বরে। এই পরিবর্তনের ফলে তাঁরা টার্গেটেড বিজ্ঞাপনে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা আগের তুলনায় কম ব্যবহার করছে। অবশ্য এই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং এর ভিত্তিতেই ইউরোপিয়ান কমিশন গত মাসে মেটার বিজনেস মডেল সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করেছে।
বিষয় সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিদের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, নিজেদের বিজনেস মডেলে আর কোনো পরিবর্তন তাঁরা প্রস্তাব করবে না, যদি না সার্বিক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসে। যদি তাই হয়, তাহলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যান্টিট্রাস্ট আইনে অচিরেই আবারও অভিযুক্ত হতে যাচ্ছে জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান। এবারে প্রতিদিন জরিমানা গুণতে হতে পারে তাঁদেরকে।
সূত্র বলছে, জুনের ২৭ তারিখ থেকে প্রতিদিন মেটার বৈশ্বিক আয়ের ৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হতে পারে প্রতিষ্ঠানটিকে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর শুক্রবারই মেটার শেয়ার দর ১ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পায়।
এ বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মেটা। তাঁরা বরং নিজেদের পূর্ববর্তী মন্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে, যেখানে তাঁরা বলেছে যে তাঁদের কর্মকাণ্ড ডিজিটাল মার্কেট আইনের ধারা লঙ্ঘন করবে না বলে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী। এ সম্পর্কিত বিবৃতিতে মেটা এও জানিয়েছিল যে, তাঁদের বিজনেস মডেলের প্রতি ইউরোপিয়ান কমিশন বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



