কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি খাতে চলতি বছর ৭২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মার্ক জাকারবার্গের সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। গতকাল (বুধবার) নিজেদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আয়ের প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, চলতি বছর ডেটা সেন্টার ও সার্ভারের মতো এআই অবকাঠামো নির্মাণে তাঁদের সার্বিক ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে মেটা জানিয়েছে, ‘আমরা বর্তমানে আশা করছি, ২০২৫ সালের মূলধন ব্যয় (ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার)- যার মধ্যে ফিন্যান্স লিজের মূল অর্থ পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত- তা ৬৬ থেকে ৭২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকবে…যা বছরের মাঝামাঝিতে এসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বেশি।’
এআই খাতে মেটা যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারই প্রতিফলন ঘটেছে তাঁদের ৭২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণার মাধ্যমে। বাংলাদেশি মুদ্রায় অর্থের অঙ্কটা ৮ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
তবে শুধু চলতি বছরই নয়, ২০২৬ সালেও মেটা এআই খাতে নিজেদের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। কেননা এআই খাতে তাঁদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের চাহিদা মেটাতে আগ্রাসীভাবে নিজেদের এআই সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে মেটা।
বুধবার প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় মেটা’র প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) সুসান লি বলেছেন যে, ‘আমরা আশা করি, সেরা এআই মডেল ও পণ্যের অভিজ্ঞতা তৈরিতে সহায়ক হয়ে উঠবে উন্নত এআই এআই অবকাঠামোর উন্নয়ন।’
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে লি আরও বলেছেন যে, মেটা যদিও আশা করছে এআই খাতে তাঁদের বেশিরভাগ বিনিয়োগের সংস্থান তাঁরা নিজেরাই করবে, তবে ডেটা সেন্টার নির্মাণে আর্থিক অংশীদারদের সাথে কাজের সুযোগও তাঁরা খুঁজছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় প্রান্তিকে মেটা’র আয় হয়েছে ৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে) তাঁদের আয়ের প্রত্যাশা ৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৫০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। গত প্রান্তিকে মেটার আয় এবং চলতি প্রান্তিকে তাঁদের লক্ষ্য- দুটোই প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে মেটার। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরই মেটার শেয়ারে ১০ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
তবে মেটার মালিকানাধীন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও অগমেনটেড রিয়েলিটি পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান রিয়েলিটি ল্যাবস যথারীতি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে- দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাঁদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তাতে অবশ্য দমে যাওয়ার পাত্র নন জাকারবার্গ, এআর ও ভিআর প্রযুক্তিতে নিজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না তিনি।
তথ্যসূত্র: টেকক্রাঞ্চ



