অস্ট্রেলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার) জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। দেশটির ভোক্তা অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে যে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আগে থেকেই গুগলের সার্চ অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল (প্রি-ইনস্টল) করে রাখার জন্য দেশটির সবচেয়ে বড় দুটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদান করেছে গুগল। এমন প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের কারণেই বড় অংকের অর্থ জরিমানার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে গুগল।
উল্লেখ্য, গুগলের সার্চ অ্যাপ্লিকেশনটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আগে থেকেই ইনস্টলড্ থাকায় সার্চ ইঞ্জিনের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য ব্যবহারকারী হারিয়েছে। ফলে বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এটি।
মার্কিন ডলারে জরিমানার অংকটা ৩৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন- যেটা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩৮ কোটি টাকারও বেশি।
অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই সময়টা ভালো যাচ্ছে না গুগলের। গেল সপ্তাহে ফোর্টনাইট গেমের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এপিক গেমসের দায়ের করা এক মামালায় গুগল ও আরেক টেক জায়ান্ট অ্যাপলের বিরুদ্ধে রায় দেয় আদালত। এপিক গেমসের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান দুটি তাঁদের নিজ নিজ অপারেটিং সিস্টেমে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপ্লিকেশন স্টোরগুলোর প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করছে।
গুগলের দুঃসংবাদের এখানেই শেষ নয়। গত মাসে অস্ট্রেলিয়াতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সকল প্রকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেশটির সরকার। প্রাথমিকভাবে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকলেও পরবর্তীতে তাঁদেরকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসা হয়। উল্লেখ্য, ইউটিউবের মালিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে গুগল।
অস্ট্রেলিয়ার টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে গুগলের প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি প্রসঙ্গে দেশটির ভোক্তা অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা (অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন) আজ সোমবার জানায় যে, টেলস্ট্রা ও অপটাস- এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সাথে গুগল চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির অধীনে ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে ২০২১ সালের শুরু পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে গুগল সার্চে বিজ্ঞাপন থেকে যে আয় হতো তা গুগল এই প্রতিষ্ঠান দুটির সাথে ভাগ করে নিত।
টেলস্ট্রা ও অপটাসের সাথে চুক্তির কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী সার্চ ইঞ্জিনগুলো যে বাজারে গুগলের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছে গুগল। পাশাপাশি এ ধরনের চুক্তি করা তাঁরা বন্ধ করে দিয়েছে এবং জরিমানা দিতেও রাজি হয়েছে বলেও জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন (এসিসিসি)।
এসিসিসি প্রধান জিনা-ক্যাস গটলিয়েব বলেন, ‘আজকের এই ফলাফল…লাখ লাখ অস্ট্রেলীয়র জন্য ভবিষ্যতে সার্চের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংখ্যক সার্চ ইঞ্জিন থেকে বাছাই করার সুযোগ প্রদান করবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ট্রেলীয় ব্যবহারকারীদের কাছে যথাযথ পরিচিতি পেতে সাহায্য করবে।’
গুগল ও এসিসিসি যৌথভাবে ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন জমা দিয়েছে যে, গুগলের এ$৫৫ মিলিয়ন জরিমানা প্রদান করা উচিত।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে গুগল ও এসিসিসি যৌথভাবে একটি আবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যক্রমের কারণে ৫৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা দেওয়া উচিৎ গুগলের।
প্রতিজগিতা আইন ভঙ্গের কারণে গুগলকে করা জরিমানা যথাযথ হয়েছে কি-না তা এবার আদালত বিবেচনা করছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসিসিসি ও গুগলের মধ্যে সহযোগিতার কারণে দীর্ঘ আইনি লড়াই এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



