সাম্প্রতিক সময়ে চীন-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে চ্যাটবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। আমেরিকান এই এআই স্টার্টআপটি জানিয়েছে, চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট তাঁরা নিষিদ্ধ করেছে। এই ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথোপকথন পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে।
ওপেনএআই তাঁদের সাম্প্রতিক জননিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, কয়েকজন ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি’র কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তি বা নজরদারি’র জন্য বিভিন্ন লিসেনিং টুল এবং পর্যবেক্ষণের অন্যান্য সিস্টেম সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। বিষয়টি ওপেনএআই-এর জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ওপেনএআই’র এই প্রতিবেদনটি জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে জনমনে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নীতিমালা নির্ধারণ নিয়ে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত আরও তীব্র হচ্ছে।
প্রতিবেদনে ওপেনএআই আরও উল্লেখ করেছে যে, ফিশিং এবং ম্যালওয়্যার অ্যাটাকের জন্য সহায়তা চাইছিল এমন বেশ কয়েকটি চীনা-ভাষী অ্যাকাউন্টও তাঁরা নিষিদ্ধ করেছে। কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে চীনের এআই চ্যাটবট ডিপসিক-এর মাধ্যমে কীভাবে অতিরিক্ত অটোমেশন অর্জন করা যায়, এ বিষয়ে চ্যাটজিপিটি-কে গবেষণা করতে বলা হয়েছে।
চীন-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি রুশ-ভাষী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সাথে যুক্ত সন্দেহে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে ওপেনএআই। রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট এই ব্যবহারকারীরা ম্যালওয়্যার তৈরির বিষয়ে সহায়তা চাইছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জনসাধারণের জন্য হুমকি-বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে ওপেনএআই। এর মাধ্যমে তাঁরা ৪০টিরও বেশি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ ব্যাহত ও রিপোর্ট করতে সমর্থ হয়েছে। চ্যাটজিপিটি’র মডেলগুলো ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকারক প্রম্পটগুলোতে সাড়া দেয়নি বলে দাবি সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক স্টার্টআপটির।
ওপেনএআই’র প্রতিবেদন বলছে, ‘আমরা নতুন কৌশলের, কিংবা আমাদের মডেলগুলো হুমকি সৃষ্টিকারীদেরকে নতুন আক্রমণাত্মক সক্ষমতা প্রদান করেছে- এমন কোনো প্রমাণ পাইনি।’
ওপেনএআই ২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি চালু করে। এরপর থেকেই জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির সক্ষমতার কথা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং এই প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা ও চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি’র সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০ কোটিরও বেশি। এআই’র শক্তিতে ওপেনএআই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে, যাদের বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



