বহুল-প্রতীক্ষিত এআই ব্রাউজার নিয়ে হাজির হয়েছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই। ‘চ্যাটজিপিটি অ্যাটলাস’ নামের এই ব্রাউজারটি এনে রীতিমতো গুগলকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার নতুন এই ব্রাউজারটি উন্মোচনের মাধ্যমে নিজেদের এআই ইকোসিস্টেমকে আরও বিস্তৃত করল ওপেনএআই, ঠিক যেমনটা করে চলেছে গুগল।
ওপেনএআই’র নিজস্ব একটি এআই ব্রাউজার নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা অবশ্য অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। তবে চ্যাটবটের মতো এআই ব্রাউজারের ক্ষেত্রে ফাঁকা মাঠ পাচ্ছে না স্যাম অল্টম্যানের প্রতিষ্ঠান। বাজারে আছে পারপ্লেক্সিটি’র কমেট, ব্রেভ, এবং অপেরা’র নিয়ন-এর মতো এআই ব্রাউজার। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রাউজারে যুক্ত করছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেজ সামারাইজ, ফর্ম পূরণ এবং কোড লেখার টুল।
অ্যাটলাস ব্রাউজারের যেকোনো উইন্ডোতে ব্যবহারকারীরা একটি চ্যাটজিপিটি সাইডবার খুলতে পারবেন। এরপর সেখানে যেকোনো সাইটের কনটেন্ট সামারাইজ (সংক্ষিপ্ত) করা থেকে শুরু করে একাধিক পণ্যের মধ্যে তুলনা বা ডেটা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবেন।
এখানেই শেষ নয়। ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির ‘এজেন্ট মোড’ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতে পারে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যাটজিপিটি নিজে থেকেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করে নির্দিষ্ট একটি কাজ ধাপে ধাপে সম্পাদন করতে পারে। এজন্য প্রতিটি ধাপে নির্দেশনার প্রয়োজন হয় না। এই যেমন ভ্রমণে যাওয়া বা কেনাকাটার মতো কাজগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করা যায় এজেন্ট মোডে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে চ্যাটজিপিটি’র পেইড ব্যবহারকারীরাই কেবলমাত্র এজেন্ট মোড ব্যবহার করতে পারছেন।
অ্যাটলাস ব্রাউজারটি উন্মোচন করে মঙ্গলবার ওপেনএআই একটি ডেমো ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখানো হয়েছে চ্যাটজিপিটি কীভাবে একটি অনলাইন রেসিপি খুঁজে বের করে তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ নিজে থেকেই কিনে নিতে পারে। এজেন্টিক সক্ষমতার এই টুলটি প্রথমে ইনস্টাকার্ট নামক একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে এবং রেসিপির জন্য প্রয়োজনীয় সকল মুদি সামগ্রী কার্টে যোগ করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই কাজটি সম্পন্ন করতে সমর্থ হয় চ্যাটজিপিটি’র এজেন্ট টুলটি।
এই সকল সুবিধাই ‘চ্যাটজিপিটি অ্যাটলাস’ ব্রাউজারে পেয়ে যাবেন চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীরা। তবে আপাতত ব্রাউজারটি অ্যাপলের ম্যাকওএস অপারেটিং সিস্টেমের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও উইন্ডোজ সংস্করণ বাজারে আনবে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই।
২০২২ সালে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি নিয়ে আসার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এআই’র ব্যাপক ব্যবহারের সূচনা করে ওপেনএআই। এরপর ডিজিটাল অ্যাসিসট্যান্ট বা চ্যাটবটের বাজারে যোগ দেয় সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। তাঁদের তৈরি জেমিনি এআই এরই মধ্যে ভাগ বসিয়েছে চ্যাটজিপিটি’র জনপ্রিয়তায়।
এখানেই অবশ্য থেমে নেই গুগল। ইতোমধ্যেই তাঁদের সার্চ ইঞ্জিনে যুক্ত হয়েছে এআই ওভারভিউ বা এআই মোড, যার কল্যাণে গুগলের সার্চ রেজাল্ট পেজেই ব্যবহারকারীরা চ্যাটবটের মতো সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন। এছাড়া বিভিন্ন এআই ফিচার যুক্ত হয়েছে তাঁদের ক্রোম ব্রাউজারেও, যাদের দখলে আছে বাজারের ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চ্যাটজিপিটি’র সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা সপ্তাহে ৮০ কোটি। বিশাল সংখ্যক এই ব্যবহারকারীদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে চাইছে ওপেনএআই। আর সে কারণে নিজেদের এআই ইকোসিস্টেমের পরিধি বাড়াতে চাইছে এই স্টার্টআপটি।
কীওয়ার্ড-ভিত্তিক সার্চ রেজাল্টের চেয়ে মানুষ এখন কথোপকথনের মাধ্যমে তথ্য খুঁজে বের করতে বেশি স্বচ্ছন্দ্য বোধ করছে। অর্থাৎ, অনলাইনে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে নতুন প্রবণতা হচ্ছে, কনভারসেশনাল সার্চ- যেখানে কনভারসেশন বা কথোপকথনের মাধ্যমে (যেমন এআই চ্যাটবটে) ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গুগল আর ওপেনএআই যে মুখোমুখি অবস্থান করবে তাতে অবাক হওয়ার কি আছে!
তথ্যসূত্র: ওপেনএআই, রয়টার্স



