দেশে প্রথমবারের মতো ‘ক্রিয়েটর ডে ২০২৫’ আয়োজন করেছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। ২০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই আয়োজনে কনটেন্ট তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে ওয়ার্কশপভিত্তিক লার্নিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, প্রকাশক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ক্রিয়েটর ডে আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা বাড়ানো এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে গল্প বলার সক্ষমতা উন্নত করা। পাশাপাশি টিকটক প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন টুল ও রিসোর্স সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হয়।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ইন্টার্যাকটিভ ওয়ার্কশপ ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়। এসব সেশনে কনটেন্ট পরিকল্পনা, গল্প বলার কৌশল, ভিডিও ধারণের পদ্ধতি এবং টিকটকের ইন-অ্যাপ ফিচারগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও প্রকাশকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচনায় মানসম্মত ও অর্থবহ কনটেন্ট তৈরির গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কনটেন্ট কমিউনিটির সৃজনশীলতা এবং তাদের প্রতি টিকটকের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ইন্টার্যাকটিভ গেম ও কার্যক্রমে অংশ নেন। পাশাপাশি আকর্ষণীয় উপহার জেতার সুযোগও ছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে টিকটকের সাউথ এশিয়া অঞ্চলের কনটেন্ট অপারেশনস লিড উমেইস নাভিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কমিউনিটি অত্যন্ত প্রতিভাবান ও সৃজনশীল। ক্রিয়েটর ডে-এর মাধ্যমে আমরা তাদের উৎসাহিত করতে চাই। একই সঙ্গে সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে মানসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরিতে সহায়তা করতে চাই, যাতে একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিকটকের লক্ষ্য হলো কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী করা, কনটেন্ট ইকোসিস্টেম উন্নত করা এবং সৃজনশীলতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকটককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গল্পগুলো বিশ্বদরবারে তুলে ধরতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।’
অনুষ্ঠানে টিকটকের চলতি বছরের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের কনটেন্ট ও ক্যাটাগরি অগ্রাধিকার সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতের জন্য ক্রিয়েটররা আগেভাগে তাদের কনটেন্ট পরিকল্পনা করতে পারেন। শিক্ষামূলক সেশন ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই ক্রিয়েটর ডে’র মাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করাই ছিল টিকটকের মূল উদ্দেশ্য।



