বিশ্বকাপে লাল কার্ড বিতর্ক এখন শিরোনামে। যুক্তরাষ্ট্রের তারকা বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তে প্রশ্নের মুখে ফিফা। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এই রায়, জানিয়েছে গণমাধ্যম। নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ফিফার ওপর ক্ষুদ্ধ ইউয়েফা। বেলজিয়াম আপিলের ঘোষণা দিয়েছে। আর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বসনিয়ার ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেন। সেটা নিয়ে বিতর্ক ছিল, ভিএআরের সিদ্ধান্তে ছিল অসন্তোষ। তবে নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর বেলজিয়ামের বিপক্ষে বালোগানের খেলার কথা নয়।
অথচ ফিফা এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গণমাধ্যমের খবর, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান ট্রাম্প। এরপরই আসে ফিফার এই ব্যতিক্রমী রায়। ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে নিরপেক্ষতা ও প্রভাব প্রশ্নের মুখে।
এ নিয়ে ফিফার ওপর ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ইউয়েফা। এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিফা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সব সীমা অতিক্রম করেছে।
বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বলছে এই সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার নিয়মকানুনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এরইমধ্যে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে বেলজিয়াম।
ফিফার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সবার মধ্যেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল বলেন, ‘কোথায় সীমারেখা টানতে হবে, সেটাই প্রশ্ন। এর কোনো উত্তর নেই। শেষ কোথায় হবে? হলুদ কার্ড যদি হলুদ কার্ড না হয়, তবে কি আমরা আপিল করব? আমরা কি মনে করি এটা লাল কার্ড নয়, নাকি অন্য কেউ তেমনটা মনে করে? এর শুরু কোথায় আর শেষ কোথায়?’
ফিফার এ ধরনের সিদ্ধান্ত বদল নতুন নয়। ১৯৬২ বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে সেমিফাইনালের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখার পরও ব্রাজিলের গারিঞ্চা খেলেছিলেন ফাইনালে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির বিশেষ শুনানিতে তার শাস্তি মওকুফ করা হয়।



