তানজীদ হাসান তামিমের অভিষেক এশিয়া কাপেই হয়ে গেছে। অভিষেকে শূন্য রানে ফেরা তামিম এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের চাপেই হোক বা যেকোনো কারণেই হোক। ৫ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে এখনো কোনো বড় ইনিংস খেলা হয়নি তামিমের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরুটা দারুণ করেছিলেন, কিন্তু দারুণ তিনটি চারের পর ফিরে গেছেন। আজও প্রথম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টকে দুর্দান্ত এক চার মেরে যে আশা দেখিয়েছিলেন, সেটা বোল্টের পরের ওভারে নিজেই নষ্ট করেছেন স্টাম্পের বাইরের বলে আলতো খোঁচা মেরে।
তবে তাতে বিশ্বকাপ স্বপ্নের কোনো ক্ষতি-বৃদ্ধি হয়নি তানজীদ তামিমের। বিশ্বকাপ দলে তামিম ইকবালের জায়গা না হলেও সুযোগ মিলেছে তামিম জুনিয়রের। লিটন দাসের পাশে দ্বিতীয় স্বীকৃত ওপেনার হিসেবে তাঁকেই নিয়েছেন নির্বাচকেরা।
আজ যখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম আউট হয়েছেন, বাতাসে তখন গুঞ্জন- চোটের কারণে তামিম ইকবাল বিশ্বকাপে সুযোগ নাও পেতে পারেন। ঠিক সে সময় অভিষিক্ত জাকির হাসানের ১ রানে ও তানজীদ তামিমের ৫ রান করে ফেরা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ওপেনিং নিয়ে দুশ্চিন্তা আতঙ্কে রূপ দিয়েছিল।
মাঝে সুযোগ পেয়ে নাঈম শেখ তেমন কিছু করতে পারেননি। এনামুল হক বিজয়কে তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচেও খেলানোর প্রয়োজন দেখেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। দুজনকেই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখেননি নির্বাচকেরা। ডাক পাওয়া তামিম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪ ইনিংসে করেছেন ৩৪ রান।
এমন নয় যে আজকের ইনিংস দেখে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছেন নির্বাচকেরা। তেমনটা হলে, সেটা হতো চুড়ান্ত অপেশাদারি আচরণ। কিন্তু আজ ভালো পারফরম্যান্স করলে অন্তত বিশ্বকাপের আগে একটু স্বস্তি পেতেন নির্বাচকেরা।
তামিম নেই, স্বীকৃত ওপেনার বলতে শুধু লিটন দাস। এ অবস্থায় শুধু সাকিবকেই ওপেনার হিসেবে নিয়েছে দল। এ ব্যাপারে নির্বাচক কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘অনেকগুলো ওপেনারকে আমরা দেখেছি, এর মধ্যে তানজীদ তামিম আমাদের হাইপারফরম্যান্স ইউনিটে অনেকদিন ছিল। ইমার্জিং কাপে যথেষ্ট ভালো করেছে।’
তবে সেই ভালোটা জাতীয় দলে এখনো দেখাতে পারেননি তানজীদ তামিম। গত ৬ জুলাই তামিম ইকবালের আকস্মিক অবসরের পর বিভিন্ন ওপেনিং কম্বিনেশন ব্যবহার করে দেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ৯ ম্যাচের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম শেখের সাময়িক জুটিই শুধু দুটি পঞ্চাশ পেরোনো জুটি গড়তে পেরেছে। বাকি সাত ইনিংসে কখনো ২০ রানও পেরোতে পারেনি বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি।
তামিমের চোট সমস্যা বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে তাঁকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। ফর্ম হারিয়ে বসেছেন লিটন দাসও। এমন অবস্থায় শুধু তানজীদকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাবে বাংলাদেশ? নান্নু অবশ্য আশা করেন, বিশ্বকাপে পেলে ভালোই করবেন তামিম, ‘এখন যে কয়েকটা সুযোগ পেয়েছে, আমরা আশাবাদি সামনে কিছুদিন চেষ্টা করলে ও নিজেকে দাঁড় করাতে পারবে। আশা করছি বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরতে পারবে।’
অর্থাৎ আশায় ভেলা ভাসিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এখনো নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি, এমন একজন ওপেনার যখন স্কোয়াডের দুই ওপেনারের একজন, তখন এছাড়া আর উপায় কী? শুধু আশায় থাকতে হবে সে ভেলা বিশ্বকাপের নির্দয় সাগরে যেন বিকল না হয়ে পড়ে।



