বল হাতে চার উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে তিন উইকেট - পাকিস্তানের দুই ফিফটি পাওয়া ব্যাটসম্যান বাবর আজম ও সউদ শাকিল এবং টিকে গেলে ঝড় তুলতে সক্ষম ইফতিখার আহমেদের। কিন্তু তাবরেজ শামসির উচ্ছ্বাস আরেক চার নিয়ে - চেন্নাইয়ে কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়সূচক হয়ে থাকা যে চারটি মেরেছেন কেশব মহারাজ।
বোলিংয়ে চার উইকেটের জন্য ম্যাচসেরা শামসিই, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান এই বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কাল পুরস্কার মঞ্চে এসে বললেন মহারাজের চারের কথা - মহারাজ এ বছরে যত রানই করুন, এর চেয়ে দামি চার আর কোনোটি হবে না!
চারটা যে এসেছে এক ভীষণ চাপের মুহূর্তে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সে সময়ে যে অবিশ্বাস্য এক জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান! শেষদিকে ৫৫ রানে মিলার-মার্করাম-ইয়ানসেনসহ ৫ উইকেট - বা আরও ছোট পরিসরে ভাবলে, ২৫ রানে ৪ উইকেট - হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা হারের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল। ২৬০ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি দাঁড়ায় - দক্ষিণ আফ্রিকার ১০ রান দরকার, হাতে ১ উইকেট। ক্রিজে তখন একপ্রান্তে শামসি, অন্য প্রান্তে মহারাজ।
৪৬তম ওভারের তৃতীয় বলে হারিস রউফ নিজের বলে নিজেই দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকার নবম ব্যাটসম্যান লুঙ্গি এনগিডিকে। এরপর শামসি আর মহারাজ মিলে পার করলেন হারিসের ওভারের বাকি তিন বল, এক ওয়াইডসহ সেখানে এল ৩ রান। এরপর কাটিয়ে দিলেন পাকিস্তানের হয়ে কাল দারুণ বোলিং করা ওয়াসিমের ওভার, সেখানেও এক ওয়াইডসহ পেলেন ৩ রান। ৪৮তম ওভারে আর কোনো পেসারের ওভার বাকি না থাকায় পাকিস্তান বল দিল স্পিনার নওয়াজকে, তাঁর প্রথম বলে শামসির সিঙ্গেলের পর দ্বিতীয় বলে চার মেরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিতিয়ে দেন মহারাজ।
ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে এ নিয়েই উচ্ছ্বাস ঝরল শামসির। পুরস্কারমঞ্চে যখন গেছেন, তখনো প্যাড পরে আছেন। এ অবস্থায় বললেন, 'ভাবিনি আমাকে প্যাড পরে নামতে হবে, তবে ভালোই লাগছে। ও (মহারাজ) সম্ভবত ওর জীবনের সেরা চারটা মেরেছে আজ। অন্তত এই পুরো বছরে ওর সবচেয়ে দামি চার এটি। এখানে মূল ব্যাপারটা হচ্ছে স্নায়ুর উত্তেজনা ধরে রাখা। কারণ ওই মুহূর্তে একজন স্পিনার বোলিং করছে দেখলে আপনার ইচ্ছা করবে একটা বড় শট খেলে খেলা শেষ করে দিতে।'



