কলকাতার পিচ কেমন আচরণ করে, ম্যাচের আগে সংশয় ছিল। ম্যাচ শুরুর পর দেখা গেল, মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের চেয়ে তেমন ব্যতিক্রম নয় ইডেন গার্ডেনসের অবস্থা। পিচে মুভমেন্ট আছে, বল থেমে থেমে আসছে ঠিকই, কিন্তু একটু বুঝেশুনে খেললে লম্বা ইনিংস খেলা সম্ভব। নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ড ৮৯ বলে ৬৮ রান করে সেটাই বুঝিয়েছেন অন্তত।
সে হিসেবে ওপেনার হিসেবে মাঠে নামা লিটন দাসের ইনিংস বড় করার যথেষ্ট সম্ভাবনা, সুযোগ ছিল। উল্টো লিটনের ১২ বলের সংগ্রামময় ইনিংসটা দেখে মনে হয়েছে, এমন পিচে রান তোলা কতই না কঠিন! ২৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন মেরেকেটে তিন। স্পিনার আরিয়ান দত্তের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের শিবিরে, তখন থেকেই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে ঢুকেছে অঘটনের শঙ্কা। ম্যাচ শেষে যে শঙ্কা রূপ নিয়েছে বাস্তবে। পঞ্চম ওভারে স্পিনার আরিয়ান দত্তের দ্বিতীয় বলে রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করেছিলেন লিটন। বল তাঁর গ্লাভসে লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার স্কট এডওয়ার্ডসের গ্লাভসে। প্রশ্ন উঠতে পারে ম্যাচের ওই পর্যায়ে রিভার্স সুইপ করার যৌক্তিকতা নিয়ে।
অথচ স্কট এডওয়ার্ডসেরও ৮৯ বল পর্যন্ত টেকার কথা ছিল না। কেন টিকেছেন? মোস্তাফিজের বলে এই লিটনই সবার আগে ক্যাচ ফেলেছেন ডাচ অধিনায়কের। তিন বলের মধ্যে মুশফিকও একই কাজ করেছেন। পরে ওই এডওয়ার্ডসই ৬৯ রান যোগ করে নেদারল্যান্ডসকে লড়াকু স্কোর এনে দেন।
পরে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিকও। তবে ইনিংসের শুরুতেই ওভাবে স্পিনারের বলে আউট হয়ে নেদারল্যান্ডসকে ‘শিকার’-এর গন্ধ পাইয়ে দেওয়ার ব্যাখ্যা হয়তো লিটনের কাছেও নেই।



