কাল বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে নেমে সেই শাহিনের সামনেই পড়েছিলেন। প্রথমে লেংথ ডেলিভারিই দিয়েছিলেন শাহিন, সে বলটা মিড অনের দিকে হালকা করে ঠেকে দিয়ে এক রান নিয়ে শাহিনের হাত থেকে সে যাত্রায় ‘উদ্ধার’ হন তাওহীদ হৃদয়।
শাহিনের বলে চড়াও হতে পারবেন না দেখেই কি না, চড়াও হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরেক বোলারের ওপর। স্পিনার উসামা মির। এমনিতেই লেগ স্পিনারদের বিপক্ষে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা আজীবনই আনাড়ি, তবে উসামার প্রথম বল মোকাবিলা করার সময় হৃদয়ের শরীরী ভাষা বা শট নির্বাচন – কোনোটা দেখেই সেটা মনে হলো না। ইনিংসের ওই পর্যায়ে দ্রুত রান তোলার জন্য মেরেই খেলতে হবে – এমনটা ভেবে বাংলাদেশের সমর্থকেরা খুশিও হলেন।
কিন্তু মেরে ধরে খেলার জন্য বল বাছাই করার প্রক্রিয়াটাও তো গুরুত্বপূর্ণ, তাই না? যেকোনো বলেই তো মারা যায় না। আন্দাজে ব্যাট চালালে ছক্কা হওয়ার সম্ভাবনাও যেমন থাকে, তার থেকে ঢের বেশি থাকে আউট হওয়ার আশঙ্কা।
সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে এক বলও লাগল না। আত্মবিশ্বাস ভালো, তবে অতি-আত্মবিশ্বাস অনেক সময় আত্মঘাতীও হয়ে যায়, সেটাও বোঝা গেল পরের বলে। পরের বলটার ‘মেরিট’ না বুঝেই চালিয়ে খেলতে গেলেন হৃদয়। টাইমিংয়ে গড়বড় হলো কিছুটা। ব্যস, এবার ক্যাচ গেল স্লিপে। ইফতিখার আহমেদের ধরতে কোনো সমস্যাই হয়নি।
বিশ্বকাপে এসেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন হৃদয়। ফর্ম হারিয়ে গত ম্যাচে একাদশ থেকে জায়গাও হারিয়েছিলেন। সে টোটকা খাটেনি দেখেই গতকাল আবারও একাদশে ফিরেছেন। ফিরেই বা লাভ হলো কোথায়!



