ঘোষণা দিয়েছিলেন আগেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিডনি টেস্ট হবে সাদা জার্সিতে ডেভিড ওয়ার্নারের শেষ ম্যাচ। গতকাল শনিবার শেষবারের মতো লাল বলের ম্যাচে মাঠে দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়া ওপেনারকে। টেস্টে সমাপ্তিরেখা টানার ম্যাচের শেষ ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরি করে স্বাগতিকদের জয়ের ভিত্তি গড়ে যখন প্যাভিলিয়নে ফিরলেন, গ্যালারীতে উপস্থিত চব্বিশ হাজারের বেশি দর্শক দাঁড়িয়ে বিদায় জানান অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনারকে।
স্বাভাবিকভাবেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাঙ্গনে প্রশ্নটা কয়েকদিন ধরে ঘুরছে, টেস্টে ওয়ার্নারের জায়গা নেবেন কে। স্টিভেন স্মিথ অবশ্য রাখঢাক না রেখে জানিয়েছেন, তিনি ওপেন করতে আগ্রহী। তবে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স স্মিথকে ওপেনিংয়ে পাঠাতে চান না। ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো জানাচ্ছে, ওপেনার হিসেবে ক্যামেরন গ্রিনকে দলে ফেরানো হতে পারে।
চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সে সিরিজকে সামনে রেখে টেস্ট দল ঘোষণার জন্য নির্বাচকদের হাতে বেশ কিছুদিন সময় আছে। কিন্তু ঘুরেফিরে একটি প্রশ্নই সামনে আসছে, কে হবেন অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী ‘ওয়ার্নার’? এ নিয়ে দলটির খেলোয়াড়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
যে ওয়ার্নারের জায়গা নিয়ে এত হইচই, তিনি নিজেকে ওপেনার মনেই করেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি ওপেনার ছিলাম না। আমাকে রান করা শিখতে হয়েছিল। এটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি আক্রমণাত্মক খেলতে চেয়েছি। রক্ষণাত্মক খেলেছি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে। অন্যদিকে যাদের আমরা চিরাচরিত ওপেনার বলি, তারা লেংন্থ বল ছেড়ে দেন, নিজের সুবিধজনক বলে রান করেন। সম্ভবত তারা আক্রমণাত্মক হন না। ওপেনিংয়ে না খেললে কি একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যাটসম্যান হতে পারেন না নাকি? আমার তো মনে হয় অবশ্যই পারেন। এই পর্যায়ে আপনাকে মানিয়ে নেওয়া শিখতে হবে।’
ওয়ার্নারের সঙ্গে টেস্টে ওপেনিংয়ে দেখা যায় উসমান খাজাকে। প্রথমে ব্যাট করাকে সবচেয়ে কঠিন কাজ মনে করেন খাজা, ‘ওপেন করাটা এত সহজ নয়। এটা খুব কঠিন কাজ। আমি এটা ভালো করেই জানি। কারণ আমি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ কিংবা ছয় নম্বরেও খেলেছি। এটা জোর দিয়েই বলছি, সবচেয়ে কঠিন ওপেনিংয়ে ব্যাট করা।’
এ কঠিন কাজটার দায়িত্বই নিতে চান স্মিথ। ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভরসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে। ওপেনিংয়ে আগ্রহের কথা জানিয়ে ৩৪ বছর বয়সী স্মিথ বলেছেন, ‘সত্যি বলতে ওপরে (ওপেনিংয়ে) খেলতে পারলে আমার ভালো লাগবে। তাঁরা (ক্রিকেট বোর্ড) যদি এটা চান, আমি ওপেন করতে আগ্রহী। আমি নিশ্চিত নির্বাচকের সঙ্গে রণ (অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড, অস্ট্রেলিয়া কোচ) ও প্যাটি (কামিন্স, অধিনায়ক) কথা বলবেন। তবে আমি অবশ্যই ওপেনিংয়ে আগ্রহী।’
স্মিথের পক্ষে কথা বলেছেন সতীর্থ মারনাস লাবুশেন, ‘পাঁচে (স্মিথের) গড় ৫৮, চারে গড় ৬১ ও তিনে গড় ৬৭। এটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সে যত ওপরের দিকে ব্যাট করছে, তাঁর গড় বাড়ছে। সে যদি আরও ওপরে (ওপেনিংয়ে) খেলে, আরও ভালো করবে। এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। সে এটা মনে প্রাণেই চাইছে। সে ব্যাটিংয়ে নামার জন্য অপেক্ষা করতে চায় না, সে সরাসরি শুরুতে খেলতে চায়।’
ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ার্নারের সঙ্গে ওপেন করতে দেখা যায় ট্রাভিস হেডকে। তবে টেস্টে মিডল অর্ডারে দেখা যায় তাঁকে। টেস্টের ওপেনিংয়ের জায়গাটা নতুনদের জন্য ছেড়ে দিতে বললেন ২৯ বছর বয়সী হেড, ‘আমি মনে করি, (ওপেনিংয়ে করা) বিশেষ দায়িত্ব। যে ছেলেরা দলে জায়গা পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে, তাদের কিছুদিন ওপেনিংয়ে খেলানো যেতে পারে। কিন্তু যে আলোচনাটা সবখানে চলছে, আমার মতে কেবল একজনকে ওপেনিংয়ে খেলা উপমহাদেশেই দেখা যায়।’
ওয়ানডে বিশ্বকাপে হেডের চোটের সময় অস্ট্রেলিয়ার ওপেন করেছেন মিচেল মার্শ। তবে টেস্টে ওপেনিংয়ে খেলতে চান না তিনি। মার্শের মতে, দলে থাকাটাই তাঁর কাছে মুখ্য, ‘দলে জায়গা ফিরে পেতে আমি কঠোর পরিশ্রম করে গেছি। তবে ওপেনার হিসেবে খেলতে হবে, এ নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। শেষ চার টেস্টে আমি ছয়ে ব্যাটিং করেছি। আমার মনে হয় আমি নিজেকে ফিরে পেয়েছি। তাই এ জায়গা ছাড়তে চাই না।’
স্মিথের ওপেনিংয়ে খেলতে চাওয়া নিয়ে অ্যালেক্স ক্যারি বলেছেন, ‘স্টিভ (স্মিথ) যেকোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে পারে। যে চ্যালেঞ্জই তাঁকে দেওয়া হোক না কেন, পুরো ক্যারিয়ারে সফলভাবে সে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আমরা কয়েকজন দুর্দান্ত ওপেনার পেয়েছি। আমার মনে হয়, স্মিথকে এ দায়িত্ব (ওপেনিং) দেওয়া হলে সে ভালো করবে। কয়েকবার সে নতুন বল সামলেছে।’
তবে প্যাট কামিন্স যা বলেছেন, তাতে খুশি হওয়ার কথা নয় স্মিথের। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সাফ জানিয়েছেন, স্মিথকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে ব্যাটিং অর্ডার এলোমেলো করতে চান না তিনি। কামিন্সের ভাষ্য, ‘স্মিথ চার নম্বরে যেভাবে খেলছে, তাতে আমি খুশি। মারনাশ (লাবুশেন), স্মিথ, ট্রাভ (হেড) ও (মিচেল) মার্শ যথাক্রমে তিন, চার, পাঁচ ও ছয় নম্বরে দুর্দান্ত করছেন। তাই ব্যাটিং অর্ডার আপাতত এলোমেলো করতে চাই না।’



