অ্যাডিলেড টেস্টের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটা গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। প্রথম ইনিংসে ভারতের ১৮০ রানের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৩৩৭ রান। ১৫৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ৫ উইকেটে ১২৮ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করে ভারত।
হাতে থাকা ৫ উইকেট নিয়ে আজ মোটে ১২.৫ ওভার টিকতে পেরেছে ভারত। আজ আর ৪৭ রান যোগ করতেই সবগুলো উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। তাতে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য দাঁড়ায় মোটে ১৯ রান। মাত্র ১৪ মিনিটে ২০ বলের মধ্যে ১০ উইকেট হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় অস্ট্রেলিয়া।
একইসঙ্গে টেস্টের আড়াই দিনের বেশি বাকি থাকতেই সিরিজে সমতা (১-১) ফেরাল স্বাগতিকরা। এ নিয়ে গোলাপি বলের ডে-নাইট টেস্টে খেলা ১৩ টেস্টের ১২টিতেই শেষ হাসি হাসল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে অধিনায়ক হিসেবে টানা চার টেস্ট হার দেখলেন রোহিত শর্মা।
২৯ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শুরু ভারত আজ প্রথম ওভারেই ঋষভ পন্তকে হারায়। দিনের প্রথম ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিতে মিচেল স্টার্কের বলে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো স্টিভেন স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন পন্ত। আগের দিনের ২৮ রানের সঙ্গে আজ কোনো রান যোগ করার আগেই বিদায় নিয়েছেন ভারতীয় উইকেটকিপার।
এরপর নিতিশ কুমার রেড্ডিকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালাতে থাকেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দুজনের সপ্তম উইকেট জুটিতে ভারতের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২০ রান।
দলকে ১৪৮ রানে রেখে প্যাট কামিন্সের বাউন্সারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন অশ্বিন (৭)। ৫ রানের ব্যবধানে কামিন্সের শিকার হয়ে ফেরত যান হারশিত রানাও (০)। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের বাউন্সার বুঝতেই পারেননি রানা। বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দেন উসমান খাজার হাতে।
১৫৩ রানে ৮ উইকেট নেই ভারতের। সফরকারীরা তখনো পিছিয়ে ২ রানে। উইকেটে নিতিশ রেড্ডি ছিলেন বলে হয়তো কিছুটা স্বপ্ন দেখছিলেন ভারতীয় সমর্থকেরা। কিন্তু দলের লিড ৯ রান হতেই কামিন্সের আরেক বাউন্সারে পরাস্ত হন নিতিশ। ৪৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ক্যাচ তুলে দেন ম্যাকসুয়েনির হাতে। এতে ইনিংসে ৫ উইকেট হয়ে যায় কামিন্সের।
এরপর দিনের ১৩তম ওভারে সিরাজকে আউট করে ভারতকে ১৭৫ রানে থামান স্কট বোল্যান্ড। তাতে জয়ের জন্য মোটে ১৯ রান দরকার হয় অস্ট্রেলিয়ার। ম্যাকসুয়েনি (১০) ও উসমান খাজা (৯) জয় পাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার কোনো উইকেট পড়তে দেননি।