গতকাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান। হারলেই বাদ- এমন সমীকরণে নেমেও লড়াইয়ের ছিটেফোঁটা দেখাতে পারেনি দলটি। ২৪২ রানের লক্ষ্যে নেমে দুবাইয়ের কঠিন উইকেটেও ৪৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে ভারত। সেটাও বিরাট কোহলির সেঞ্চুরির জন্য বাড়তি চেষ্টা করায় কিছু বল নষ্ট করেছে বলে।
এদিকে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স দেখে মাথা হেঁট সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। উত্তরসূরিদের খেলা দেখে তাঁর মনে হচ্ছে এই দলের মান আমেরিকা ও ওমানের মতো সহযোগী দলগুলোর মতো।
ড্রেসিং রুম শোতে কথা বলতে গিয়ে নিজের ক্ষোভ ঢাকতে পারেননি ওয়াসিম আকরাম। স্বাগতিক দল হয়ে এখন গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পরার সমূহ সম্ভাবনা পাকিস্তানের। শুধু আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ই পারবে পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রাখতে।
আকরাম সে আশা ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমান ভুলে ভবিষ্যতের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলছেন, ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ দরকার। আমরা বহুদিন ধরেই সাদা বলে প্রাগৈতিহাসিক আমলের ক্রিকেট খেলছি। বদল আনতেই হবে। ভয়ডরহীন ক্রিকেটারদের দলে আনুন, তরুণদের আনুন। পাঁচ থেকে ছয়টি জায়গায় পরিবর্তন দরকার। দয়া করে সেটাই করুন।’
এক সঙ্গে এমন পরিবর্তন আনলে শুরুতে যে ফল আসবে না সেটা জানেন আকরাম, ‘পরের ছয়মাসে হয়তো হারবেন। এতে সমস্যা নেই, কিন্তু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই দল বানাতে হবে।’
আকরাম তরুণদের নিয়ে দল গড়ার পক্ষে। আর পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপের সবাই তরুণ। কিন্তু সেই তরুণরাই ম্যাচের পর ম্যাচ হতাশ করছেন দলকে। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহদের নিয়ে কথা বলতে গিয়েই আমেরিকা ও ওমানের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন আকরাম। ওয়ানডে ক্রিকেটে বর্তমান দ্বিতীয় নিকৃষ্ট বোলিং গড় পাকিস্তানের, ‘বহুত হয়েছে। ওদের তারকা বানিয়ে রেখেছেন আপনারা। সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডেতে পাকিস্তানি বোলাররা মাত্র ২৪ উইকেট নিয়েছে, ৬০ গড়ে। মানে এক একটি উইকেট নিতে ৬০ রান দেয় এরা। আমাদের বোলিং গড় ওমান বা আমেরিকার চেয়েও খারাপ। যে ১৪টি দেশ এখন ওয়ানডে খেলে পাকিস্তানের বোলিং গড় দ্বিতীয় নিকৃষ্ট।’
এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শহীদ আফ্রিদি। গতকাল ওয়াসিম আকরামও যোগ দিলেন সে তালিকায়। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিকে বলেছেন, টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে জবাব চাইতে, ‘চেয়ারম্যান সাহেব দয়া করে অধিনায়ক, নির্বাচক কমিটি এবং কোচদের ডেকে পাঠান এবং জিজ্ঞেস করেন, কী ধরনের দল নির্বাচন করেছেন তারা। খুশদীল শাহ এবং সালমান আগাকে দেখে কবে মনে হয়েছে এরা উইকেট নিতে পারে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে আমি আসলেই চিৎকার করে বলেছি এই স্কোয়াড ভালো না, কিন্তু চেয়ারম্যান বলেছেন তারা সেরা স্কোয়াড বানিয়েছে।’
বোর্ড ও দল যেভাবে চলছে তা পছন্দ হচ্ছে না আকরামের, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির একদিন আগে তারা এক ঘণ্টা ধরে মিটিং করেছে কিন্তু আগের দলই রেখেছে। এমনকি রিজওয়ানও দায়ী। সে নেতা কিন্তু সে জানে না ম্যাচ জেতাতে কাকে লাগবে। দিন দিন লজ্জাকর হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। স্টেডিয়ামে থাকা পাকিস্তান সমর্থকদের চেহারা দেখা উচিত ছিল আপনার। পাকিস্তান বোলিং শুরু করার ১৫ ওভারের মাথায় ওরা ভেন্যু ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছি। জীবনে এমন কিছু দেখিনি। খুবই দুর্ভাগ্যজনক। জাতি হিসেবে আমরা আবেগি। কিন্তু এটা হতাশাজনক।’



