এশিয়া কাপের আগে শুধু বোলারদের প্রস্তুত করতেই ব্যস্ত বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া লিটনকে হতাশ করেননি বোলাররা। নাসুম আহমেদের স্পিনের পর তাসকিন-মোস্তাফিজের পেসে পুরো ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। উল্টো সিলেটের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়েছে সফরকারীরা।
সিলেটে আগে ব্যাট করতে নেমে নাসুম-তাসকিনদের বোলিংয়ে ১৫ বল আগেই মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে নেদারল্যান্ডস। এর আগে এই মাঠে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিল ১১৬/৯, যা ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত করেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আজ ১০৩ রান করে সেই রেকর্ড দখলে নিয়েছে ডাচরা।
ম্যাচের প্রথম বলেই চার মেরে ইনিংসের সূচনা করেন ডাচ ওপেনার ম্যাক্স ও ডাউড। তবে প্রথম ওভারেই উইকেট নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলে ডাচ ওপেনার বিক্রমজিৎ সিংকে রানআউটের সুযোগ নষ্ট করেন শেখ মেহেদী হাসান।
প্রথম দুই ওভারে দেখেশুনে খেলে ১৪ রান তোলে নেদারল্যান্ডস। শুরুতে উইকেট না আসায় তৃতীয় ওভারে লিটন বল তুলে দেন স্পিনার নাসুম আহমেদের হাতে। সুযোগ পেয়েই নিজের ঝলক দেখান এই বাঁহাতি স্পিনার।
নাসুমের স্পিনে ওপেনার ম্যাক্স ও ডাউড ফেরেন মাত্র ৮ রান করে। দ্বিতীয় বলে উইকেট পাওয়া নাসুম পরের বলেই ফেরান তেজা নিদামানুরুকে। ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ডাচরা।
দ্রুত দুই উইকেট হারালেও বিক্রমজিত সিং পাওয়ার প্লেতে আগ্রাসী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন। পঞ্চম ওভারে নাসুম আহমেদের বলে ১২ রান তোলেন এই বাঁহাতি। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের স্লো ডেলিভারিতে সহজ এক ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বিক্রমজিত (২৪ রান)। পরের বলেই আরেকটি উইকেটের দেখা পেতেন তাসকিন। কিন্তু থার্ডম্যানে শারিজ আহমেদের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন তানজিম সাকিব।
পাওয়ার প্লে শেষে ৩ উইকেট ৪০ রান তোলে নেদারল্যান্ডস। শুরুতে তিন উইকেট হারানো সফরকারীরা মাঝ ওভারেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। অষ্টম ওভারে পঞ্চাশ রান পার করলেও পরের ওভার থেকে ফের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয় ডাচদের।
নবম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের স্লো ডেলিভারিতে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাত্র ৮ রানে। ৫৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস আরও চাপে পড়ে পরের ওভারেই। তানজিম সাকিবের করা দশম ওভারে নোয়া ক্রুস রান আউট ও শারিজ আহমেদ ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলে ৬১ রানে ৬ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া ডাচদের ১১তম ওভারে ফের চাপে ফেলে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসারের বলে মাত্র ২ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন সিকান্দার জুলফিকার। ৬৫ রানে ৭ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে।
শেষ দিকে কেউ আর প্রতিরোধ না গড়তে পারলেও স্পিনার আরিয়ান দত্ত সফরকারীদের মান বাঁচিয়েছেন। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ৩০ রানের ইনিংসে কোনো রকমে এক শ রানের গণ্ডি পার করে নেদারল্যান্ডস। ১৮তম ওভারে আরও ১৫ বল বাকি থাকতেই ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় এডওয়ার্ডসরা। নাসুম ৩টি উইকেট নেন। তাসকিন ও মোস্তাফিজ পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।



