সিরিজ জয়ের মঞ্চ প্রথমেই তৈরি করে দিয়েছেন নাসুম আহমেদ ও তাসকিন আহমেদরা। সিলেটের মাঠে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়া ডাচরা বাংলাদেশকে মাত্র ১০৪ রানের লক্ষ্য দেয়। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হেসেখেলে জিতলেও নিজেদের আগ্রাসী ব্যাটিংটা দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। তানজিদ তামিমের ফিফটিতে ৯ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।
জয়টা এসেছে ৪১ বল হাতে রেখে - লক্ষ্য তাড়ায় বল হাতে রেখে জয়ের হিসেবে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। আগের ম্যাচে ৩৯ বলে ম্যাচ জিতলেও এবার আরও দুটি বল কম লাগল লিটনদের।
এর আগে লক্ষ্য তাড়ায় এর আগে ৫০ ও ৪৮ বল হাতে রেখে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেবার অবশ্য ১০৫ ও ৭৩ রানের লক্ষ্য ছিল।
১০৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ইনিংসের শুরুটা ধীরগতির করেছেন দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ তামিম। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে-তে দলীয় পঞ্চাশ রান পার করা বাংলাদেশ আজ তেমন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে পারেনি। প্রথম পাঁচ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৬ রান তোলেন ইমন-তামিম জুটি। এরপর ষষ্ঠ ওভারে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়ে ইমন (২১ বলে ২৩ রান) কাইল ক্লেইনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। দলীয় ৪০ রানের প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ পাওয়ার প্লে শেষে ১ উইকেটে তোলে ৪১ রান।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিমের সঙ্গী হন অধিনায়ক লিটন দাস। ছোট লক্ষ্য থাকায় দুজনে মাঝ ওভারে বড় কোনো ঝুঁকি নেননি। দেখেশুনে ওয়ানডে স্টাইলে খেলেছেন এই দুজন। ১১ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ছিল ৭৫ রান। সপ্তম ওভার থেকে ১১তম ওভার পর্যন্ত ৩০ বলে লিটন-তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৩৪ রান। যদিও ১২তম ওভার থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং করে ম্যাচ দ্রুত জয়ের দিকে নিয়ে যান এ জুটি।
৩২ বলে ৩৪ রান করা তামিম মুখোমুখি পরের ৭ বলে ১৬ রান তুলে ফিফটির দেখা পান। ১৪তম ওভারে ডাউন দ্য উইকেটে এসে তামিমের চারে বাংলাদেশের জয় যখন নিশ্চিত হচ্ছে, তামিমের নামের পাশে ৪০ বলে ৫৪ রান। অন্য প্রান্তে লিটন অপরাজিত থাকলেন ১৮ বলে ১৮ রান করে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নেদারল্যান্ডসের ব্যাটসম্যানরা। নাসুম আহমেদের এক ওভারে জোড়া আঘাত দিয়ে ডাচদের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে যে ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়, তা থেকে পুরো ইনিংসে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা।
নাসুমের পর তাসকিন-মোস্তাফিজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৫ বল আগেই মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের হয়ে ৩টি উইকেট নেন নাসুম। তাসকিন-মোস্তাফিজ পান ২টি করে উইকেট।


ডাচদের দিয়ে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড করিয়ে লিটনদের প্রস্তুতিতে ‘বাধা’ নাসুমদের
