আরেকটু হলেই দ্বিতীয় সুপার ওভার হয়ে যেত! হয়নি, এক ওয়াইডেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে গেল।
এতে হাঁফ ছাড়ুন বা না ছাড়ুন, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক আকবর আলী ছেড়েছেন। ম্যাচটা যে নির্ধারিত ২০ ওভারে শেষ না হয়ে সুপার ওভারে গেছে, তার পেছনে যে আকবরের একটা ওভার থ্রো-ই দায়ী!
নাটক, তারপর আরও নাটক, তারপর আরও…মহানাটকীয় এক সেমিফাইনালে শেষ পর্যন্ত রিপন মণ্ডলের দারুণ বোলিংয়ের সৌজন্যেই ভারতকে বাড়ি পাঠিয়ে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের ১৯৪ রানের জবাবে ভারতও ১৯৪ রানই তুললে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, তাতে ভারত কোনো রান তুলতে না পারার পর এক ওয়াইডেই জিতে গেছে বাংলাদেশ।
অথচ ম্যাচটা সুপার ওভারে গড়ানোর কথাই ছিল না। রিপন মণ্ডলের বোলিং নির্ধারিত ২০ ওভারেই বাংলাদেশের জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। শেষ দুই ওভারে ভারতের দরকার ছিল ২১ রান। রিপন ১৯তম ওভারে এসে শুধু ৫ রান দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তুলে নিয়েছেন ভারতের সেট ব্যাটসম্যান রামানদীপ সিংয়ের উইকেটও। শেষ ওভারে ভারতের দরকার পড়ে ১৬ রান।
সেখান থেকে শেষ তিন বলে সমীকরণ নেমে এল ৮ রানে। মহানাটকের শুরু সেখান থেকে। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবের করা শেষ ওভারের চতুর্থ বলে লং অনে আশুতোষ শার্মার সহজ ক্যাচ ছাড়লেন জিশান আলম। শুধু ক্যাচই ছাড়েননি, তাতে চারও হয়ে গেছে! তবে আশুতোষ পরের বলেই বোল্ড হয়ে যান।
শেষ বলে দরকার হলো ৪ রানের। এবং সে মুহূর্তেই যেন ‘ব্রেইন ফেইড’ হলো বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবরের। ফুল লেংথ বলটা লং অনে ঠেলে দুই রানের জন্য দৌড়েছেন। আকবরের হাতে যখন বল গেল, তিনি হয়তো দৌড়ে গিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেওয়ার সময়ও তাঁর হাতে ছিল। কিন্তু আকবর করলেন থ্রো! স্টাম্পের পেছনে আর কেউ ছিলেন না বলে বল গেল দূরে, তৃতীয় রানও পেয়ে গেল ভারত। ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে।
সেখানে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত বুঝি একটু হিসেবে ভুলই করে ফেলল। সুরিয়াভানশির মতো খেলোয়াড়, যিনি এই টুর্নামেন্টেই ৩২ বলে সেঞ্চুরি করেছেন, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডও যাঁর, তাঁকে না নামিয়ে ভারত ওপেন করতে পাঠাল জিতেশ শার্মাকে। এবং এ বেলায়ও বল হাতে খেল দেখালেন বাংলাদেশের রিপন মণ্ডল! প্রথম বলে দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড করে দিলেন জিতেশকে, পরের বলে আশুতোষ ক্যাচ দিলেন জাওয়াদের হাতে। ভারতের রান ০, সুপার ওভারে জিততে বাংলাদেশের দরকার ১ রান!
সহজ কাজই তো, তাই না? কিন্তু নাটকের কমতি হয়ে গেছে বলেই কি না, প্রথম বলে আউট হয়ে গেলেন বাংলাদেশের ইয়াসির আলী, সুয়াশ শর্মার বলে ক্যাচ দিলেন রামানদীপের হাতে। বাংলাদেশের তখন সমীকরণ, রান দরকার ১, হাতে উইকেটও ১। নামলেন আকবর! কিন্তু তাঁকে কিছু করতেই হলো না, গুগলি মারতে গিয়ে ওয়াইড দিয়ে ফেললেন সুয়াশ! বুঝতে যেন একটা সেকেন্ড সময় লাগল আকবরের। এরপর যে ধীর প্রতিক্রিয়ায় অদৃশ্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি, সেটাই বলে দিচ্ছিল, কতটা চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি!
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন এই টুর্নামেন্টেই ৩৫ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া হাবিবুর রহমান সোহান। ৪৬ বলে ৩ চার ৫ ছক্কায় ৬৫ রান করেছেন তিনি। অন্য ওপেনার জিশান আলম (২৬) দ্রুত ফিরে যান, মাঝে জাওয়াদ-আকবর-আবু হায়দারদের মিলিত রান ২২। তাতে বাংলাদেশ সোহানের এনে দেওয়া শুরুর পুরো ফসলটা তুলে নিতে পারেনি। ১৬তম ওভারে যখন সোহান আউট হচ্ছেন, বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১২৬।
তবে এরপর খেল দেখিয়েছেন মেহেরব হাসান! শেষ দিকে ১ চার ৬ ছক্কায় ১৮ বলে ৪৮ রান করেছেন! তাতে শেষ দুই ওভারেই বাংলাদেশ পেয়েছে ৫০ রান! নামান ধীরের শেষ ওভারেই তুলেছে ২৮ রান!
জবাবে সুরিয়াভানশি শুরুটা করেছেন আগ্রাসী, প্রিয়ানশ আরিয়াও যোগ দেন তাঁর সঙ্গে। তাতে মাত্র ১৯ বলেই দলীয় ৫০ পেরিয়ে যায় ভারত। তবে চতুর্থ ওভারে আবদুল গাফফার সাকলাইন ফেরান সুরিয়াভানশিকে (১৫ বলে ৩৮)। তবে প্রিয়ানশ চালিয়ে যান, নামান ধীর না পারলেও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন জিতেশ শার্মা। দশম ওভারে রাকিবের বলে প্রিয়ানশ (২৩ বলে ৪৪) ফেরার সময় ভারতের রান ৩ উইকেটে ৯৮। চতুর্থ উইকেটে জিতেশের (২৩ বলে ৩৩) সঙ্গে নেহাল ভাধেরা (২৯ বলে ৩২) ভারতকে ১৫০ পর্যন্ত নিয়ে যান। ১৬তম ওভারে জিতেশ আউট হওয়ার সময় ভারতের রান ঠিক ১৫০-ই।
তখনো ভারতই এগিয়ে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপর শেষ দিকে যে নাটক হলো, তার জন্য বাংলাদেশ বা ভারত কেউই প্রস্তুত ছিল না। অনেক ভুল করার পরও যে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিতেছে, ফাইনালে উঠেছে, তাতেই স্বস্তি পাবেন এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।



