টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সুযোগ থাকলেও অধিনায়ক লিটন দাস বোলারদের কাছে শুরুতে দায়িত্ব দেন। আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বোলারদের রীতিমত পরীক্ষা নিয়েছেন আইরিশ ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের কখনোই আইরিশদের চাপে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। হ্যারি ট্যাক্টরের ৪৫ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৯ রানের আগ্রাসী ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ১৮১ রানের সংগ্রহ পেয়েছে আয়ারল্যান্ড।
চট্টগ্রামে এর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে মাত্র একটি। ২০১৪ বিশ্বকাপে ১৯০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। এই মাঠে বাংলাদেশের রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ১৫৮ রানের (২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। এর বেশি রানের লক্ষ্য কখনো তাড়া করে জিততে পারেনি স্বাগতিকরা। আজ রেকর্ড গড়েই জিততে হবে লিটনদের।
টস জিতে আগে ফিল্ডিং করতে নেমে পাওয়ার প্লের শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। আয়রাল্যান্ডের দুই ওপেনার পল স্টার্লিং ও টিম ট্যাক্টর মিলে শরীফুল ইসলাম-নাসুম আহমেদদের ওপর চড়াও হন।
প্রথম ৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪০ রান তোলে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেন আইরিশ দুই ওপেনার। তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ডানহাতি এই পেসারের বলে লং অনের ওপর দিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে মিস টাইমিং করেন পল স্টার্লিং। শর্ট মিড উইকেট থাকা সাইফ হাসান সহজ ক্যাচ নিতে ভুল করেননি। ১৮ বলে ২১ রান করে ফেরেন আইরিশ অধিনায়ক।
পাওয়ার প্লেতে আর উইকেট না হারিয়ে ৪৮ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। মাঝ ওভারে স্পিনার রিশাদ হোসেনের ওপর চড়াও হন আরেক ওপেনার টিম ট্যাক্টর। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ১ চার ও ১ ছক্কায় রিশাদের ওভারে ১৪ রান এনে আগ্রাসী ক্রিকেটের বার্তা দেয় সফরকারীরা।
তবে নবম ওভারে রিশাদকে ফের বাউন্ডারি ছাড়া করতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়ে বসেন ওপেনার টিম ট্যাক্টর। ১৯ বলে ৩২ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। দলীয় ৭১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা।
তৃতীয় উইকেটে ক্রিজে এসে হ্যারি ট্যাক্টরের সঙ্গী হন লরকান টাকার। দশ ওভার শেষ স্কোরবোর্ডে আইরিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৭৭ রান।
দশ ওভারের পানি বিরতিতে শেষে নিজেদের খোলস ছেড়ে বের হন আইরিশ দুই টপ অর্ডার। রিশাদ ও নাসুমের করা ১১-১২তম ওভারে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ২৭ রান যোগ করেন টাকার-ট্যাক্টর জুটি।
১২তম ওভারে দলীয় এক শ রান পার করে আয়ারল্যান্ড। স্পিনারদের পিটুনি খাওয়া দেখে অধিনায়ক লিটন পেসার শরীফুল ইসলামের হাতে বল তোলে দেন। আর তাতেই নিজেদের তৃতীয় ওভার বল করে এসে বাজিমাত করেন এই বাঁহাতি পেসার।
ইনিংসের ১৩তম ওভারে স্লো ডেলিভারিতে লরকান টাকারকে বোকা বানান শরীফুল। বাঁহাতি এই পেসারের গুড লেন্থের স্লো বল মিড অফের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ দিয়ে বসেন ১৪ বলে ১৮ রান করা টাকার।
দলীয় ১০৫ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। টাকার ফিরে গেলেও অপর প্রান্তে থাকা ট্যাক্টর রানের গতি কমতে দেননি। কার্টিস ক্যাম্ফারকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন এই ডানহাতি।
ইনিংসের শরীফুল-মোস্তাফিজদের একের পর এক বাউন্ডারি ছাড়া করে ১৭ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ১৪৮ রান তোলেন ট্যাক্টর-ক্যাম্ফার জুটি। বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাওয়া আইরিশদের ১৮তম ওভারে ধাক্কা দেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। বড় শট খেলতে গিয়ে পয়েন্ট অঞ্চলে পারভেজ হোসেন ইমনের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ১৮ বলে ২৪ রান করে ফেরেন ক্যাম্ফার।
জুটি ভাঙলেও অপর প্রান্তে থাকা হ্যারি ট্যাক্টর একই ওভারে ৩৭ বলে নিজের ফিফটির দেখা পেয়ে যান। শেষ দিকে জর্জ ডকরেলের ৭ বলে ১২ রানের ইনিংস ও ৪৫ বলে ট্যাক্টরের ৬৯ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে রানের সংগ্রহ পায় আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন সাকিব, তবে ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন তানজিম হাসান।



