ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে গতকাল আরেকটি অনন্য রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন বিরাট কোহলি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির(১০২ রান) মাধ্যমে ৩৪টি ভেন্যুতে ওয়ানডে সেঞ্চুরির একমাত্র রেকর্ডে শচীন টেন্ডুল্কারের পাশে বসলেন কোহলি। শুধু তা-ই নয়, রায়পুরে সেঞ্চুরির মাধ্যমে টানা দুই ম্যাচ বা তার বেশি সেঞ্চুরির ১১তম কীর্তি গড়েছেন, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও কেউই পারেনি।
কোহলির এমন অর্জনের দিন অবশ্য ম্লান করে দিয়েছে সাউথ আফ্রিকা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ বল আগেই ৪ উইকেটের জয় পেয়ে যায় সাউথ আফ্রিকা। এইডেন মার্করামের সেঞ্চুরিতে (১১০ রান) ভারতের বিপক্ষে যৌথভাবে সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে প্রোটিয়ারা।
এর আগে ভারতের বিপক্ষে একই ৩৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২০১৯ সালে মোহালিতে ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
রায়পুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৮৩ বলে ১০৫) ও বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ৩৫৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা কোহলির এটি ৫৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
এছাড়াও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির(৭) রেকর্ড গড়েছেন কোহলি। এদিকে কোহলির ওয়ানডেতে ৭টি বা তার বেশি সেঞ্চুরি করার চতুর্থ প্রতিপক্ষ বনে গেল সাউথ আফ্রিকা। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০টি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৯টি ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮টি সেঞ্চুরি করেছেন কোহলি।
প্রথম ইনিংস কোহলির এত অর্জনের পরও জয় হাতছাড়া হয়েছে ভারতের। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় সাউথ আফ্রিকা। ওপেনার কুইন্টন ডি কককে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফেরান পেসার আর্শদ্বীপ সিং। ১১ বলে ৮ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কক।
দলীয় ২৬ রানে সাউথ আফ্রিকা প্রথম উইকেট হারালেও পাওয়ার প্লেতে দলকে সামলেছেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ও ওপেনার মার্করাম। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৫১ রান তোলে প্রোটিয়ারা।
মাঝ ওভারে সফরকারীদের খুব বেশি একটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি ভারতের বোলাররা। বিশাল সংগ্রহ পেলেও ভারতের বোলিংয়ের সময় প্রতিপক্ষ ছিল দুটি। এক সাউথ আফ্রিকা, দ্বিতীয়ত শিশির।
মাঠে শিশিরের জন্য বোলাররা ঠিকমতো পিচ থেকে সুবিধা আদায় করতে পারছিল না। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছেন বাভুমা-মার্করাম জুটি। ইনিংসের ১৮তম ওভারে দলীয় এক শ রান পার করে সাউথ আফ্রিকা। মার্করাম ৫২ বলে নিজের ফিফটির দেখা পেলেও অন্য প্রান্তে থাকা অধিনায়ক বাভুমা ২১তম ওভারে ৪৮ বলে ৪৬ রান করে প্রসিধ কৃষ্ণার পেসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
দলীয় ১২৭ রানে ভাঙে এই জুটি। ১০১ রানের জুটি গড়ার পর তৃতীয় উইকেটে মার্করামের সঙ্গী হন ম্যাথু ব্রিটজকে। এই জুটি থেকে আসে ৫৫ বলে ৭০ রান।
৮৮ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় মার্করাম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান ২৭তম ওভারে। তবে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি করার পর মার্করাম ফিরলেও পথ হারায়নি সাউথ আফ্রিকা। পরের উইকেটে ব্রিটজকে ও ডেভাল্ড ব্রেভিস গড়েন ৬৪ বলে ৯২ রানের জুটি। ৩৪ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ব্রেভিস। ব্রিটজকে করেছেন ৬৪ বলে ৬৮। এই জুটিই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
শেষ দিকে ব্রিটজকে ফিরে গেলে ও টনি ডি জর্জি চোটের কারণে উঠে গেলে কিছুটা চাপে পড়েছিল সাউথ আফ্রিকা। কিন্তু তাতে বেশি ক্ষতি হয়নি, অলরাউন্ডার করবিন বশের ১৫ বলে ২৯ রানের ইনিংসে ৪ বল আগেই জিতেছে তারা।
সাউথ আফ্রিকার এই জয়ে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ সমতায়। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ৬ ডিসেম্বর।



