আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলারই কথা ছিল না স্কটল্যান্ডের। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি স্কটিশরা। তবে আইসিসির এক সিদ্ধান্তের বদৌলতে ভাগ্য খুলে যায় স্কটল্যান্ডের। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার অনড় অবস্থান নেয় বাংলাদেশ।
তারই প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত বাংলাদশেকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। তাতে র্যাঙ্কিং বিবেচনায় অনেকটা ‘ভাগ্যগুণে’ বিশ্বকাপের টিকিট পায় স্কটিশরা। তবে স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের অস্ট্রেলিয়ান প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, এভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাননি তারা।
এছাড়া গতকাল সোমবার বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে স্কটল্যান্ড। সেই দলে থাকা এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের ভিসা নিয়েও বিপত্তিতে পড়েছে স্কটিশরা।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ছিল ‘সি’ গ্রুপে। আর এই গ্রুপের সব ম্যাচ ভারতের মাটিতে। বাংলাদেশ না খেলায় এখন ভারতে ম্যাচগুলো খেলবে স্কটিশরা। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশর বাদ পড়া প্রসঙ্গে ট্রুডি লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশ দলের জন্য আমাদের সহানুভূতি আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা কখনোই এভাবে বিশ্বকাপে যেতে চাইনি। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের একটা প্রক্রিয়া আছে। আর কেউ-ই আমাদের মতো এমন ভাবে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে বা আমন্ত্রণ পেতে চায় না। এটা স্বীকার করছি, আমাদের অংশগ্রহণটা একেবারেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ফল। আর সে কারণেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে।’
এভাবে সুযোগ পেলে স্কটল্যান্ড সমালোচনার মুখে পড়বে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘ওই ওই ধরনের ভাষা ব্যবহার করব না… মানুষের নিজস্ব মতামত থাকবে। আর সে মতামত দেওয়ার অধিকার তাদের আছে। শুধু এতটুকু জানি, আমাদের বিশ্বকাপ খেলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা কিন্তু আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা একটি দল। একই সঙ্গে আমরা শক্তিশালী দল, যারা সারাবছরই নিয়মিত ক্রিকেট খেলে।’
তা বিশ্বকাপে তো সুযোগ পেল, তাহলে বিপত্তিটা কোথায়? বিপত্তিটা আসলে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া পাকিস্তান-বংশোদ্ভুত সাফিয়ান শরিফকে নিয়ে। স্কোয়াডকে সুযোগ পাওয়া সব ক্রিকেটারের ভিসা নিশ্চিত করতে কাজ করলেও শরিফকে নিয়ে চিন্তায় আছে স্কটিশরা।
ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের নাগরিক কিংবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের ভারতীয় ভিসা পেতে বিলম্ব হওয়া নতুন কিছু নয়। এমনকি এ তালিকায় বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও আছেন।
তবে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড আত্মবিশ্বাসী যে, হাডার্সফিল্ডে পাকিস্তানি বাবা ও ব্রিটিশ-পাকিস্তানি মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সাফিয়ান শরিফ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম ম্যাচের আগেই ভিসা পাবেন। উল্লেখ্য, সাফিয়ান শরিফ ৭ বছর বয়সেই স্কটল্যান্ডে যান।
শরিফের ভিসা প্রসঙ্গে লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘এটা নিশ্চিত করতে আমরা সবাই আইসিসির সঙ্গে কাজ করছি। ভিসার বিষয়টি সব সময়ই কিছুটা অনিশ্চিত— আপনার হাতে ৩ দিন থাকুক বা ৪৫ দিন, তাতে খুব একটা পার্থক্য হয় না।’
শুধু শরিফ নয়, সব ক্রিকেটারের ভিসা নিশ্চিতে কাজ করছে স্কটল্যান্ড, সেটাও জানিয়েছেন লিন্ডব্লেড, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় আমাদের মূল মনোযোগ ছিল ভিসাগুলোর কাজ সম্পন্ন করার দিকে, যেন সব খেলোয়াড় প্রস্তুত থাকতে পারে। সবাই ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার মাঝপথে আছে এবং যত দ্রুত সম্ভব আমরা ভারতে মাটিতে নামব— এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।’
তবে কোন কোন খেলোয়াড় ভিসা পাবেন, যে আইসিসির নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটাও উল্লেখ করেছেন লিন্ডব্লেড, ‘(আইসিসি) শুধু সেই বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা দিতে পারে, যেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে। আর যেসব বিষয় তাদের নিয়ন্ত্রণে, সেসব নিয়ে আমরা আইসিসির কাজ করছি এবং তারাও বিসিসিআই ও স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছে, যেন আমাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’
স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়াটা যেহেতু হঠাৎ করেই, তাই বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে দুজন ট্রাভেলিং রিজার্ভ ও তিনজন নন-ট্রাভেলিং রিজার্ভের জন্যও ভিসার আবেদন করবে স্কটল্যান্ড।
উল্লেখ্য, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে তিনটি পরিবর্তন এনেছে দলটি। প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া ১৯ বছর বয়সী পেসার জাইনুল্লাহ ইহসান। এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে ১৭ টি-টোয়েন্টি খেলা টম ব্রুসকেও দলে রেখেছে স্কটিশরা।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড স্কোয়াড:
রিচি বেরিংটন (অধিনায়ক), টম ব্রুস, ম্যাথিউ ক্রস, ব্র্যাড কারি, ওলি ডেভিডসন, ক্রিস গ্রিভস, জাইনুল্লাহ ইহসান, মাইকেল জোন্স, মাইকেল লিস্ক, ফিনলে ম্যাকক্রিথ, ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন, জর্জ মানসি, সাফিয়ান শরিফ, মার্ক ওয়াট, ব্র্যাড হুইল
ট্রাভেলিং রিজার্ভ: জ্যাসপার ডেভিডসন, জ্যাক জার্ভিস
নন-ট্রাভেলিং রিজার্ভ: ম্যাকেঞ্জি জোন্স, ক্রিস ম্যাকব্রাইড, চার্লি টিয়ার।



