আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্ক কম হচ্ছে না। ভারতে না খেলার দাবিতে অনড় বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত বাদ দিয়েছে আইসিসি। ওদিকে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেওয়া পাকিস্তান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। এমন সব আলোচনার মধ্যে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে নিপাহ ভাইরাস।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এখনো সীমিত পরিসরে থাকলেও এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দল বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে বলে গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়া উচিত নয়।
তবে এসব গুঞ্জন বা দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসে পজিটিভ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দুজন নার্স। ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত নার্স দুজনকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এই দুই নার্সের সংস্পর্শে আশা আরও ১৯৬ জনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। অবশ্য সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের রিপোর্টে নেগেটিভ ফল এসেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইনসাইড স্পোর্টস।
যে পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে, সেই পশ্চিম বঙ্গের ইডেন গার্ডেনে এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালসহ ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে হাজার হাজার সমর্থক ঝুঁকির মধ্যে আছেন।
তবে ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিপাহ ভাইরাসের পরিস্থিতি ‘জরুরি অবস্থা’ বলার মতো অবস্থায় যায়নি। বরং এটি স্থানীয় প্রাদুর্ভাব এবং সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে দেশটির মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে বাড়তি নজরদারি, পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলে সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যকর আছে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরেক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত (ভারতে) নতুন কোনো নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বর্তমান প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করছে না।’
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেহেতু পরিস্থিতিকে একেবারে নিয়ন্ত্রিত বলছে, সে কারণে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখছে না বিসিসিআই। বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে এক বিসিসিআই কর্মকর্তা ইনসাইডস্পোর্টসকে বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। আমরা কখনোই স্বাস্থ্যঝুঁকিকে হালকাভাবে নেই না। বড় কোনো আয়োজনের আগে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা থাকে। বর্তমানে তেমন কোনো ঝুঁকি আমরা দেখছি না। যদি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে, তাহলে আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। আপাতত এটি শুধুই ভীতিপ্রচার, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
নির্ধারিত সূচিতেই ম্যাচ আয়োজিত হবে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, ‘উদ্বেগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং কলকাতা থেকে ম্যাচ সরানোর বিষয়টিও আলোচনায় নেই। সবকিছু নিরাপদ। সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন ভিন্ন কোনো পরামর্শ দিলে, আমরা সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করব। তবে এই মুহূর্তে নিপাহ প্রাদুর্ভাব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’



