ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের গতকালকের এক বক্তব্যের পর থেকে সমালোচনার ঝড় বইছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররাই নিয়েছেন বলে গতকাল মন্তব্য করেছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। অথচ গত জানুয়ারিতেও তিনি জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্তটা সরকারের।
কয়েকদিনের ব্যবধানে উপদেষ্টার এমন দুই ধরনের বক্তব্যের পর যে সমালোচনা শুরু হয়েছিল, আজ সেটির ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন আসিফ নজরুল।
নিজের স্বীকৃত ফেসবুক পেইজে এক পোষ্টে গতকালকের বক্তব্যের ব্যাখায় আসিফ নজরুল জানান, তিনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, সেই কথার অন্তর্গত বার্তা উপলব্ধি না করে তুলে ধরার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ফেসবুক পোষ্টে ক্রীড়া উপদেষ্টা লেখেন, ‘গতকাল একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আমার বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর আমি যা বোঝাতে চেয়েছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত ও অন্তর্গত বার্তাকে উপলব্ধি না করে উপস্থাপিত হওয়ার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তটা আসলে কোন দিক থেকে এসেছে - এমন কোনো প্রশ্ন গতকাল করা হয়নি জানিয়ে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি। গতকাল বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার নেওয়া - এটি কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না, এ নিয়ে কোনো প্রশ্নও করা হয়নি।’
বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে বোর্ড ও ক্রিকেটাররা ত্যাগ স্বীকার করেছেন জানিয়ে উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘গতকালের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য ২ কোটি টাকা চেক প্রদানের অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের এরকম স্পর্শকাতর সময়ে আমি তাদের এই বদান্যতায় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। সেসময় সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে, এখানে আমার বা সরকারের তো দুঃখের বিষয়টা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে - ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।’
ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও জানান, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটাররা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে দেশের স্বার্থের জন্য।
গতকালকের সংবাদ সম্মেলনের কথা বুঝিয়ে বলতে না পারাটা নিজের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন আসিফ নজরুল, ‘সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপে বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা এখানে স্বীকার করে নিচ্ছি। আবারো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতোটা সহজ হতো না।’



