বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে প্রয়োজন আর ১ রান, ফিন অ্যালেনের সেঞ্চুরি করতে দরকার ৪ রান। ইনিংসের ১৩তম ওভারেই বিশ্বকাপের ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে নিউজিল্যান্ড। এমন পরিস্থিতিতে আগের ৪ বলে ৪ বাউন্ডারি মারা অ্যালেন নিজের সেঞ্চুরি করতে ভুলেননি। মার্কো ইয়ানসেনের ওভারের পঞ্চম বলে চার মেরে ৩৩ বলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান অ্যালেন। সেই সঙ্গে ৪৩ বল আগেই ৯ উইকেটের দাপুটে জয়ে আহমেদাবাদে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেওয়ার পথে একাধিক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন অ্যালেন। আইসিসির পূর্ণ্য সদস্য দলের বিপক্ষে এটিই টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যে এটি যৌথভাবে দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে সিকান্দার রাজা – গাম্বিয়ার বিপক্ষে, নাইরোবিতে, ২০২৪ সালে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্রিস গেইলের রেকর্ডও ভেঙেছেন অ্যালেন। এর আগে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল।
কলকাতার ইডেনে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রীতিমত ঝড় তুলেছেন টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার মিলে ম্যাচ একতরফা বানিয়ে দেন। ৬ ওভারে ৮৪ রান তোলেন কিউই ওপেনাররা।
সাউথ আফ্রিকার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দিয়ে পাওয়ার প্লেতেই ২১ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন সাইফার্ট, ১৫ বলে ৪৩ রান করেন ফিন অ্যালেন।
পাওয়ার প্লেতে এমন বেধড়ক পিটুনি খেয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি সাউথ আফ্রিকা। ২৮ বলে ফিফটির দেখা পেয়ে যান সাইফার্ট। তবে ইনিংস বেশি বড় করতে পারেননি, দশম ওভারে রাবাদার বলে বোল্ড হন সাইফার্ট। ৩৩ বলে ৫৮ রান করেন এই ওপেনার।
এরপরের গল্পটা ছিল শুধুই অ্যালেনের। ১৯ বলে ফিফটি করা এই ওপেনার ম্যাচ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। শেষ পর্যন্ত ১৩তম ওভারে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম দশ ওভারেই পিছিয়ে পড়ে সাউথ আফ্রিকা। শুরুর দিকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ডি কক ও রিকেল্টনকে হারায় সাউথ আফ্রিকা। এরপর মাঝ ওভারে মার্করাম ও মিলারকে হারিয়ে ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৭৭ রান স্কোরবোর্ডে তোলে প্রোটিয়ারা।
শেষ দিকে মার্কো ইয়ানসেনের ৩০ বলে ৫৫ রানের ইনিংসে ১৬৯ রানের সংগ্রহ পায় সাউথ আফ্রিকা। আগামীকাল ভারত- ইংল্যান্ড ম্যাচে নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ।



