বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এর আগে কখনো এমন দৃশ্যের দেখা মিলেনি। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে আজ ইংল্যান্ডের বোলারদের দিয়ে শুধু বাউন্ডারি থেকে বল কুড়ানোর কাজ করিয়েছে সাঞ্জু স্যামসনরা। আগে ব্যাট করতে নেমে স্যামসন-শিবাম দুবেদের ঝড়ে ৭ উইকেটে ২৫৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পেয়েছে ভারত।
যা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। শুধু তা-ই নয়, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কার(১৯) রেকর্ডে যৌথভাবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে ভারত। এছাড়াও এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাউন্ডারির রেকর্ড গড়েছে ভারত- ৩৭টি বাউন্ডারি (১৯টি ছক্কা ও ১৮টি চার)। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ বাউন্ডারি- ৪১টি (৩০টি চার ও ১১টি ছক্কা) —২০০৭ সালে যা শ্রীলঙ্কা করেছিল কেনিয়ার বিপক্ষে।
দলীয় রেকর্ডের পর ব্যক্তিগত ইনিংসেও রেকর্ড গড়েছেন সাঞ্জু স্যামসন। ৪২ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন এই ওপেনার। সেই সঙ্গে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ছক্কার(১৬টি) রেকর্ডেও নিজের নাম লিখিয়েছেন। পেছনে ফেলেছেন সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে(১৫)।
স্যামসনের রেকর্ড গড়ার দিনে খানিকটা আফসোস করতে পারেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে উইল জ্যাকসের স্পিনে আভিষেক শর্মা মাত্র ৯ রানে করে ফিরে যাওয়ার পর স্যামসনের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন ইংলিশ অধিনায়ক। জফরা আর্চারের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে স্যামসনের ক্যাচ ব্রুক যখন ফেলে দেন তখন এই ওপেনারের রান ছিল মাত্র ১৫।
এরপর কেবল ইংলিশ বোলারদের বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন স্যামসন। দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিশানকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ার প্লেতেই স্কোরবোর্ডে তোলেন ৬৭ রান। অষ্টম ওভারে মাত্র ২৬ বলেই ফিফটির দেখা পেয়ে যান স্যামসন।
নবম ওভারে দলীয় এক শ রান পার করে ভারত। দশম ওভারে ১৮ বলে ৩৯ রান করে ইশান কিশান ফিরে গেলেও ভারতের রানের গতি থামতে দেননি স্যামসন। এরপর তৃতীয় উইকেটে শিবাম দুবেকে সঙ্গে নিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন স্যামসন।
১০ ওভারে ২ উইকেটে ১১৯ রান করা ভারত বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল। আগ্রাসী ব্যাটিং ১৩তম ওভারেই দলীয় দেড়শ রান পার করে ভারত। তবে ১৪তম ওভারে নিশ্চিত সেঞ্চুরি হাতছাড়া করে উইল জ্যাকসের স্পিনে ৮৯ রান করে ফেরেন স্যামসন।
শেষ দিকে দুবে, পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মার ক্যামিও ইনিংসে ২৫৩ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। ২৫ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৩ রান করেন দুবে, ১২ বলে ২৭ রান করেন পান্ডিয়া, ৭ ভলে ২১ রান করেন তিলক।



