টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সে কী আলোচনা। আলোচনা হবে না-ই বা কেন? দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে কথা। কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন শুধুই কাগজে-কলমেই টিকে আছে। মাঠের খেলায় ভারত যোজন যোজন এগিয়ে। সেটা ভারত-পাকিস্তান গ্রুপ পর্বের ম্যাচটাতে যেমন প্রমাণিত হয়েছে, তেমনি প্রমাণ মিলেছে বিশ্বকাপে দুই দলের গতিপথেও।
ভারত যেখানে গতকাল রোববারের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে রীতিমতো পাড়ার দল বানিয়ে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। পাকিস্তান সেখানে কোনোমতে গ্রুপপর্ব পেরোলেও সালমান আলী আঘাদের যাত্রা থেমেছে সুপার এইটেই।
দুই দলের শক্তির ব্যবধান যে ক্রমেই বাড়ছে, সেটা ভালোভাবেই অনুধাবন করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর তাই নিজের সাবেক দলকে নিয়ে কটাক্ষ করতে ভোলেননি তিনি। পাকিস্তানের সমালোচনায় শেহজাদ মন্তব্য করেছেন, ভারত যেখানে বিশ্বকাপ জেতে, সেখানে পাকিস্তান জিম্বাবুয়ে-কেনিয়া-উগান্ডার মতো দলকে হারিয়েই খুশি থাকে!
পাকিস্তান দলের এমন নাজেহাল অবস্থান অবস্থার জন্য দেশটির সিস্টেমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন শেহজাদ। আর সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে কোনো রাখঢাক রাখেননি ৩৪ বছর বয়সী সাবেক এ ওপেনার।
পাকিস্তানের টিভি অনুষ্ঠান ‘হার না মানা হ্যায়’তে উপস্থিত হয়ে শেহজাদ বলেছেন, ‘পাকিস্তানে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। সমস্যাটা আমাদের সিস্টেমে। ভারতের কী আছে? সেখানে প্রতিভার পাশাপাশি শক্তিশালী সিস্টেমও আছে। সেই প্রতিভা ও সিস্টেম থেকেই নিয়মিত নতুন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে। এই যে স্যামসন— যে প্রায়ই দলে সুযোগ পায় না— সে-ই এখন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। আর ইশান কিশান— সেও মাঝেমধ্যে খেলার সুযোগ পায়। শৃঙ্খলার কারণে ওকে একসময় বাইরেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলে ও আবার দলে ফিরেছে।’
শেহজাদ যোগ করেন, ‘আভিষেক শার্মার ওপর অনেক চাপ ছিল। কিন্তু ফাইনালে ও ঠিকই ২১ বলে ৫২ রান করেছে। যেন বলছে— “আমরা এসে গেছি।”’
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের পার্থক্য বোঝাতে শেহজাদ বলেন, ‘এরপর শেহজাদ বলেন, ‘ভারত বড় দলের বিপক্ষে বড় ম্যাচ খেলে। বড় সিরিজ খেলে।’ সাবেক এ ব্যাটসম্যান এটাও জানান, ভারত যেখানে ২৫০ রান পেরিয়ে যায়, পাকিস্তান হলে ১৮০ রানেই সন্তুষ্ট থাকত, আর সেটা নিয়েই বোলারদের ওপর ভরসা করত।
উপস্থাপককে উদ্দেশ্য করে শেহজাদ বলেন, ‘আপনি বলছিলেন, ভালো দল ঠিক সময়ে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলে। ভারতও বলেছিল, ওরা ২৫০ করবে। আমরা হলে ১৮০ রানেই থেমে যেতাম। এরপর বলতাম, “১৮০ রান করেছি, এখন বোলাররা সামলাবে।” কিন্তু ওরা (ভারত) এমনটা করে না।’
গতকালের ম্যাচ নিয়ে শেহজাদ আরও বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। নয়তো ভারত ২৭৫ রানের দিকেই যাচ্ছিল।’
এরপর পাকিস্তানকে নিয়ে কটাক্ষ করে সাবেক এ ওপেনার বলেন, ‘এখন পাকিস্তানে আমরা কেমন মানের ক্রিকেট খেলছি? আমরা শুধু জিম্বাবুয়েকে ডাকি, ওদের হারাই; কেনিয়াকে ডাকি, ওদের হারাই; উগান্ডাকে ডাকি, ওদের হারাই।’
সেখানেই থেমে থাকেননি শেহজাদ, পাকিস্তানকে নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়তে ছাড়তে বলেন, ‘আমাদের জন্য আলাদা র্যাঙ্কিং বানান— যেখানে শুধু কেনিয়া, উগান্ডা আর জিম্বাবুয়ে থাকবে।’


ভারত যেন পাড়ার সেই ‘ধনীর ছেলে’, যারা ‘গরিবদের’ খেলায় নেয় শুধুই হারানোর জন্য
