তানজিদ তামিম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন, তবে এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেননি। সাইফ হাসান, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় কিংবা নাজমুল হোসেন শান্ত – অন্তত দশ বল খেলা বাকি ব্যাটসম্যানদের সবাই অন্তত শুরু পেয়েছেন। তবুও কি মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে নিজেদের ইনিংস শেষে একটু অতৃপ্তি থাকবে বাংলাদেশের?
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তামিমদের হাত ধরে ইনিংস যেভাবে এগিয়েছে, শেষ পাঁচ ওভারের মাত্র একটিতে দুই অঙ্কে রান তুলতে পারা বাংলাদেশের তাই অন্তত ২০টি রান কম হওয়ার আফসোস থাকলেও থাকতে পারে। ইনিংসের প্রায় অর্ধেক (১৪২টি) ডট বলও আফসোস বাড়ানোর কথা।
তবে পিচের ধরন আর পাকিস্তানের বোলিং বিশ্লেষণ বলবে, এই রানও একেবারে আফসোসে ডুবতে দেবে না বাংলাদেশকে। এই পিচেই প্রথম ওয়ানডেতে ১১৪ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তাছাড়া পাকিস্তানের বোলাররাও ইনিংসের মাঝের দিক থেকে বাংলাদেশকে খুব বেশি হাত খোলার সুযোগ দেননি।
স্পিনাররা রান আটকেছেন, হারিস রউফের মতো পেসার প্রথম স্পেলে রান দিলেও পরে এসে তা সামাল দিয়েছেন। এমনকি বারবার স্লোয়ার বলও করতে দেখা গেছে হারিসকে, কিছু বল নিচুও হয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট, ইনিংস যত গড়িয়েছে, পিচে পড়ার পর বলের গতি তত কমে এসেছে। বাংলাদেশ আজ নেমেছে অবশ্য অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে, তার মানে তিন পেসার আর দুই স্পিনার নিয়ে।
আজ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের গল্প মূলত তানজিদ তামিমকে ঘিরেই। প্রথম ওয়ানডেতে ঝোড়ো ফিফটি পাওয়া তামিম আজ শুরু থেকেই আগ্রাসী। ফিফটি পেয়েছেন ৪৭ বলে, ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন ৯৮ বলে। ইনিংসের মাঝেই একবার ক্র্যাম্পের জন্য চিকিৎসা নেওয়া তামিম তাঁর ৬ চার ৭ ছক্কার ইনিংসটি অবশ্য সেঞ্চুরির পর খুব বেশি এগিয়ে নিতে পারেননি। ১০৭ বলে ১০৭ রান করে আউট হয়েছেন।
তামিমের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে সঙ্গী সাঈফ হাসান (৫৫ বলে ৩৬) খুব বেশিদূর যেতে না পারলেও এক প্রান্ত থেকে যেমন সঙ্গ দিয়েছেন, তাতে জুটিতে শতরান দেখেছে বাংলাদেশ। ১৮.১ ওভার স্থায়ী জুটিতে ১০৫ রানের জুটিই বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছে।
তিনে নামা শান্তও (২৭) খুব বেশিদূর যেতে পারেননি, আউট হয়েছেন দলকে ১৫৮ রানে রেখে। ৩৭তম ওভারে তামিম যখন আউট হচ্ছেন, ততক্ষণে দলের রান ১৯৪। সেখান থেকে বাংলাদেশ ৩০০ পার করবে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু সে জন্য অন্তত একজনের ব্যাট থেকে যে বাড়তি আগ্রাসন দরকার ছিল, সেটা বাংলাদেশের কারও ইনিংসে সেভাবে দেখা যায়নি। লিটন দাস ৩ রানে ক্যাচ দিয়ে বেঁচেও শেষ পর্যন্ত করতে পেরেছেন ৪১ রান, তা-ও ৫১ বলে। ৪৭তম ওভারে লিটনের পরের বলেই আউট হয়েছেন রিশাদ হোসেন। তাওহীদ হৃদয় ৪৪ বলে করেছেন অপরাজিত ৪৮। আফিফ হোসেন তো নেমে খেলার সুযোগই পেয়েছেন ৮ বল, তাতে করেছেন ৫ রান।



