পিএসএলে খেলা অন্যান্য বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে গত রোববারই দেশে ফেরার কথা ছিল নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে পেশোয়ার জালমি অনুরোধ করে এই দুই পেসারের অনাপত্তি পত্রের (এনওসি) মেয়াদ একদিন বাড়িয়ে নেয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এ দুজনকে ধরে রাখতে কেন অনুরোধ করেছিল, সেটা গতকাল সোমবার আরেকবার প্রমাণ করেছেন নাহিদ রানা ও শরীফুল। দুর্দান্ত বোলিংয়ে আরেকটা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন দুই পেসার। পেশোয়ারকে জিতিয়ে আজ দেশে ফেরার কথা শরীফুল ও নাহিদ রানার।
পিএসএলে গতকাল মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে ২৪ রানের জয় পেয়েছে পেশোয়ার। আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে দলটি। পরে নাহিদ রানা-শরীফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুলতান আটকে যায় ১৭২ রানে।
গতকালের ম্যাচে বাংলাদেশি দুই পেসার কতটা প্রভাব রেখেছেন, সেটা স্কোরকার্ডেও স্পষ্ট। নাহিদ রানা ৪ ওভারে মোটে ২৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। শরীফুল কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে দিয়েছেন মোটে ২৭ রান।
স্কোরকার্ডে স্পষ্ট হলেও দুজনের বোলিংয়ের প্রকৃত কার্যকারিতা সেখানে পুরোপুরি ফুটে উঠছে না। মুলতান ইনিংসের ১৬ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ৫ উইকেটে ১৫১ রান। জয়ের জন্য শেষ ২৪ বলে দলটির তখন ৪৬ রান দরকার। হাতে তখনো ৫ উইকেট। ম্যাচের পাল্লা যেকোনো দিকে হেলে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইনিংসের ১৭তম ওভারে গিয়ে ৬ রান দেন নাহিদ রানা। একই সঙ্গে তুলে নেন আরাফাত মিনহাসের উইকেট। পরের ওভারে শরীফুল দেন ৫ রান। ইনিংসের পরের ওভারে নাহিদ রানা ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ২ রান দিয়ে নিয়েছেন আরেকটা উইকেট।
ডেথ ওভারের ওই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নাহিদ রানা ও শরীফুল দুজনে মিলে ৩ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচটা ঘুরে গেছে ওখানেই। শেষ ওভারে জয়ের জন্য মুলতানের সমীকরণ তখন ৩৩ রানের। সুফিয়ান মুকিম ৮ রান দিয়ে ওভারটা শেষ করেন।
গতকালের এ জয়ে পিএসএলে পেশোয়ারের জয়ের ধারা অব্যাহতই থাকল। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষেই থাকল পেশোয়ার। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মুলতান।



