‘ওরা আমাকে ওদের কথা মতো খেলোয়াড় নিতে বলেছিল, আমি না করেছি। কারণ ওদের কেউ কেউ ২-৩ বছর ধরে খেলার মধ্যেই ছিল না। ওরা একটি কারণ খুঁজছিল আমাকে সরানোর জন্য। ওদের কথা মতো দল না সাজানোর কারণে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।’- কানাডা জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকে এভাবেই তাঁর সঙ্গে হয়ে যাওয়া অন্যায়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
বোর্ডের কথা না মানায় ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে লঙ্কান এই কোচকে কানাডা জাতীয় দলের হেড কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কানাডার অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এর ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’শীর্ষক একটি তথ্যচিত্রে এসব অভিযোগ করেন কোচ দাসানায়েকে।
এমন অভিযোগ ২০২৪ বিশ্বকাপের হলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার ম্যাচ নিয়ে। যেখানে কানাডা ক্রিকেটকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, শুধু তা-ই নয় ম্যাচ গড়া পেটার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে।
আজ শুক্রবার কানাডার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিতে ৪৩ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রচারিত হয়েছে। সেখানে কানাডার ক্রিকেটের এক কালো অধ্যায় উঠে এসেছে।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদন বলছে, আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশন ইতিমধ্যে কানাডার ক্রিকেটের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। দুটি অভিযোগে তদন্ত করছে আকসু।
‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এর তথ্যচিত্র অনুযায়ী, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষভাবে নজরে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভার। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পঞ্চম ওভার বোলিং করতে আসেন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া। বল করতে এসেই প্রথম বলে নো বল করেন এই অফ স্পিনার। সেই ওভারে এক নো বল ও এক ওয়াইডে দুই বাউন্ডারিতে মোট ১৫ রান দেন বাজওয়া।
অথচ তৃতীয় ওভারে বাঁহাতি স্পিনার সাদ বিন জাফর এসে একটি উইকেটসহ মেডেন ওভারে করেন। কিন্তু পঞ্চম ওভারে উইকেট পাওয়া জাফরকে বল না দিয়ে বাজওয়া নিজে বোলিংয়ে আসেন।
সেই ম্যাচে কানাডা ১৭৪ রানের লক্ষ্য দিলেও ২৯ বল আগেই ৮ উইকেটে হেরে বসে। ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এর তথ্যচিত্র জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট বাজওয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁর মুঠোফোনও চেক করা হয়। বাজওয়াকে অধিনায়ক করা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তাঁকে অধিনায়ক করা হয়।
আইসিসির আরেকটি তদন্ত হচ্ছে একটি ফোন কলের রেকর্ডিং থেকে। যেখানে তখনকার কানাডা কোচ খুরাম চৌহান দাবি করেন যে বোর্ডের কিছু সিনিয়র (বর্তমানে সাবেক) সদস্য তাকে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। এই অডিওটি গত বছর ফাঁস হয় এবং তখন থেকেই আকসু এটি তদন্ত করছে। এতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে, যদিও সেগুলোর প্রমাণ নিশ্চিত করা কঠিন।
একইভাবে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দায়িত্ব ছাড়া হেড কোচ পুবুদু দাসানায়েকেকে।
আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রিউ এফগার্ভ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিবিসি-তে প্রচারিত এই তথ্যচিত্র সম্পর্কে আকসু অবগত। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী, আমরা এতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না।’
কানাডার ক্রিকেট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনেক দিন থেকেই। গত এক বছরে প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে দেশটির ক্রিকেট। বিশেষ করে সাবেক সিইও সালমান খানের নিয়োগ ও অপসারণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের তৈরি হয়।
তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে, সালমান খানের বিরুদ্ধে অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লুকানোর অভিযোগ রয়েছে এবং ক্যালগারি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও জালিয়াতির মামলা করেছে। তবে সালমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তথ্যচিত্রে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে, ক্রিকেটের সঙ্গে অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার রয়েছে। যেখানে এক সাবেক খেলোয়াড় অভিযোগ করেন তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ব্যাপারে আইসিসির কর্মকর্তা অ্যান্ড্রিউ এফগার্ভ জানান, এই বিষয়টি আকসুর আওতার বাইরে এবং এটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।



