এক মাসেরও কম ব্যবধানে আরেকবার স্পেনের আধিপত্য দেখল ফুটবল বিশ্ব। গতমাসে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল স্প্যানিশরা। গতকাল শুক্রবার রাতে আবারও সে আনন্দে ভেসেছে তারা। প্যারিস অলিম্পিকে ছেলেদের ফুটবলে স্বাগতিক ফ্রান্সকে হারিয়ে সোনা জিতেছে স্পেন। সেটাও আবার মহানাটকীয় এক ফাইনালে।
পিএসজির ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ১০ মিনিটের ঝড়ে স্কোরলাইন ৩-১ করে বিরতিতে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-৩ করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় ফরাসিরা। কিন্তু সেখানে আর পাল্লা দিতে পারেনি থিয়েরি হেনরি অরির শিষ্যরা। বদলি নামা সের্হিও কামেয়োর জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ হাসি হাসে স্পেন।
এতে ৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো স্প্যানিশদের। এর আগে অলিম্পিক ফুটবলে স্পেনের সর্বশেষ সোনা এসেছিল ১৯৯২ অলিম্পিকে। অন্যদিকে ফরাসিদের জন্য অপেক্ষাটা বাড়ল আরও চার বছর। এর আগে ১৯৮৪ অলিম্পিকে শেষবার ছেলেদের ফুটবলে সোনা জিতেছিল ফ্রান্স। এবার রূপা জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো অরির শিষ্যদের।
গতকাল ঘরের মাঠে শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল ফ্রান্স। স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ১১ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এনসো মিইয়ো। অবশ্য সমতায় ফিরতে বেশি সময় লাগেনি স্পেনের। ১৮তম মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ করেন ফের্মিন লোপেস। ৭ মিনিট পরে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের দেখা পান বার্সেলোনার ২১ বছর বয়সী এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এবারের অলিম্পিকে এটি ছিল লোপেসের ৬ষ্ঠ গোল।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক ফ্রি কিকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন আলেক্স বায়েনা। প্রথমার্ধে দুদল চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দাপট দেখিয়েছি ফ্রান্স। তবে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না অরির শিষ্যরা। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ১১ মিনিট আগে ফ্রান্সের হয়ে ব্যবধান কমান মাঘনঁ আকলিওচে। এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক জ্যঁ-ফিলিপে মাতেতা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ১০০ ও ১২০ মিনিটে দুটি গোল করে ফরাসিদের স্বপ্ন ভেঙে দেন বদলি নামা কামেয়ো।
স্বপ্নভঙ্গ হলেও ফ্রান্স যা করেছে, এতেই খুশি ফরাসি কোচ অরি, ‘এ দলটাকে গড়ে তোলা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু আমরা যা করেছি, তাতে আমি গর্বিত।’



