ডোপিং এর দায়ে ফুটবল থেকে বড় একটা সময় নিষিদ্ধ ছিলেন মিডফিল্ডার পল পগবা। নিষেধাজ্ঞা যখন শেষ হয়েছে, তখন আর কোনো দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল না, মৌসুম শেষ হওয়ার দু-এক মাস আগে দলে এত বড় পরিবর্তন আনতে চায় না কেউ।
নতুন মৌসুমের শুরুতেই দল পেয়েছেন পগবা। ফ্রেঞ্চ লিগ আঁ-র ক্লাব মোনাকো নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার যাত্রায় পগবাকে ডেকেছে। সে খবর জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ৩২ বছর বয়সী ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার।
২০১৬ সালে পগবাকে টানতে দলবদলের বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি পগবা। জাতীয় দলে দুর্দান্ত খেললেও ক্লাবে কোনোভাবেই ইউভেন্তুসের পগবাকে পাওয়া যেত না।
একসময় ইউনাইটেডে ব্রাত্য হয়ে পড়েন। ২০২২ সালে আবার ফেরেন ইউভেন্তুসে। কিন্তু ২০২৩-২৪ মৌসুমের শুরুতে ডোপ টেস্টে ধরা পড়েন ব্যক্তিগত জীবনে ভাইয়ের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাওয়া পগবা।
এ অপরাধে প্রথমে ৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা জোটে তাঁর। ধরে নেওয়া হয়, এক সময়ের বিশ্বসেরা তারকার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আপিলের পর গত অক্টোবরে জানানো হয়, শাস্তি দেড় বছরে নেমে এসেছে।
মোনাকোর সঙ্গে চুক্তি করার মুহূর্তে তাঁর ওপর ‘আস্থা রাখায়’ ধন্যবাদ জানান। এবং নিজের দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণায় ‘লা রেনেসাঁ’র (ক্যারিয়ার পুনর্জীবিত) ঘোষণা দেন।
মজার ব্যাপার, ফ্রান্স জাতীয় দলের খেলোয়াড় হলেও এই প্রথম লিগ আঁতে খেলবেন পগবা। ২০০৯ সালে ইউনাইটেডের অ্যাকাডেমিতে যোগ দেওয়া পগবা ২০১২ সালে ইউভেন্তুসে চলে যান।
ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার পরও পগবার শাস্তি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট) বলেছে, পগবা না জেনে ডিহাইড্রোএপিয়ানড্রোস্টেরোন নিয়েছেন। যা টেস্টোস্টেরন বাড়াতে সাহায্য করে। তবে বলা হচ্ছে, ওয়াডার নিষিদ্ধ তালিকায় থাকলেও এই ড্রাগ শুধু নারীদের ওপর কাজ করে।
ইউভেন্তুসের হয়ে চারটি লিগ জয়ী পগবা ইউনাইটেডের ইউরোপা লিগ জিতেছেন আর ফ্রান্সের হয়ে জিতেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপ।



