চ্যাম্পিয়নস লিগ অদ্ভুত একটা ‘ম্যাচডে’র সাক্ষী হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মাঠে নেমেছিল ১৮টি দল। ১৮ দলের মধ্যকার ৯ ম্যাচই জয়-পরাজয় দেখেছে। এর মধ্যে চারটি ম্যাচে একটি করে দল গোল করেছে। আর বাকি পাঁচ ম্যাচে গোল পেয়েছে মুখোমুখি দুটি দলই।
মজার বিষয়, ওই পাঁচটি ম্যাচে যারাই আগে গোল পেয়েছে, তারাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরেছে। এই পাঁচ ম্যাচের ঘটনা বাংলার জনপ্রিয় একটি প্রবাদকেই যেন মনে করিয়ে দেয়, ‘আগে গেলে বাঘে খায়, পাছে গেলে সোনা পায়।’
গতকাল আগে গোল হজম করেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া পাঁচটি দল হলো বায়ার্ন মিউনিখ, বার্সেলোনা, আতালান্তা, আতলেতিকো মাদ্রিদ ও মার্শেই। অন্যদিকে লিভারপুল, টটেনহাম, অলিম্পিয়াকোস ও মোনাকো- এই চারটি দল প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে শুধু নিজেরা গোল করে ম্যাচ জিতেছে।
ঘরের মাঠ কাম্প ন্যুতে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে ২১ মিনিটে কেনাফের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বার্সা। ম্যাচেরর ৫০ ও ৫৩ মিনিটে হেড থেকে দুবার জালে বল জড়িয়ে কাতালান ক্লাবটিকে পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট এনে দেন জুলস কুন্দে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে এই বার্সাকেই ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল চেলসি। তবে এবার ভাগ্য সহায় হয়নি এনসো মারেসকার দলের। আতালান্তার বিপক্ষে জোয়াও পেদ্রোর গোলে শুরুতে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে প্রিমিয়ার লিগের দলটি।
চেলসি না পারলেও গতকাল জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে প্রিমিয়ার লিগের আরেক জায়ান্ট লিভারপুল। মোহামেদ সালাহ ইস্যুতে কয়েকদিন ধরে আলোচনার-সমালোচনার তুঙ্গে থাকা ক্লাবটি গতকাল মিশরীয় তারকাকে ছাড়াই খেলতে নামে। সান সিরোতো ইন্তের মিলানোর বিপক্ষে প্রায় ড্র হওয়া ম্যাচের শেষ দিকে দমিনিক সোবোসলাইয়ের পেনাল্টি গোলে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। চ্যাম্পিয়নস লিগে সালাহকে ছাড়া ২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতল অল রেডরা।
আলোচিত রাতে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ আরেনাতে স্পোর্তিং সিপির বিপক্ষে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে আত্মঘাতী গোল হজম করে বাভারিয়ানরা। এরপর একে একে ৩ বার গোল উৎসব করে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন।
এক নজরে চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকালের ম্যাচের ফল:
বায়ার্ন ৩-১ স্পোর্তিং সিপি
বার্সেলোনা ২-১ ফ্রাঙ্কফুর্ট
আতালান্তা ২-১ চেলসি
পিএসভি ২-৩ আতলেতিকো মাদ্রিদ
ইউনিয়ন সেইন্ট গিলোইস ২-৩ মার্শেই
কাইরাত আলমাতি ০-১ অলিম্পিয়াকোস
ইন্তের ০-১ লিভারপুল
মোনাকো ১-০ গ্যালাতারারাই
টটেনহাম ৩-০ স্লাভিয়া প্রাহা



