ঠিক দুই মাস আগে রাবাতের প্রিন্স মওলা আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে মহানাটকীয় এক ফাইনালের সাক্ষী হয়েছিল আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন)। যে নাটকের শেষে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা উদযাপন করেছিল সেনেগাল।
আফকনের সর্বশেষ তিন টুর্নামেন্টের মধ্যে দুবার চ্যাম্পিয়ন- মহাদেশ সেরায় এমন সাফল্যে সেনেগালজুড়েই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। শিরোপা উদযাপনটাও রাজসিকভাবে করেছিলেন সাদিও মানেরা।
কিন্তু সেই ফাইনালের দুই মাস পর আরেক চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে। ফাইনালের ফল বাতিল করে গতকাল মঙ্গলবার মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেছে আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (কাফ)।
তা সেনেগালের শিরোপা কেন ‘কেড়ে’ নেওয়া হলো? ফাইনালের সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে পেনাল্টি পেয়েছিল মরক্কো। রেফারির সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাময়িকভাবে মাঠ ছেড়েছিলেন সেনেগালের ফুটবলাররা। প্রায় ১৭ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। পরে তারা মাঠে ফিরলে ম্যাচ আবার শুরু হয়।
মজার বিষয়, ওই পেনাল্টি শটে গোল করতে ব্যর্থ হয় মরক্কো। তার একটু পরে পাপে গায়ের গোলে ২০২১ এর পর আরেকবার আফকনের শিরোপা নিশ্চিত হয় সেনেগালের। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়েছিলেন, সেই বিতর্কিত ঘটনার জেরেই তাদের শিরোপা কেড়ে নিয়েছে কাফ।
ফাইনালের ফল বাতিল করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার বিবৃতিতে কাফ জানিয়েছে, ওই ওয়াকঅফের কারণে সেনেগালকে ‘ফাইনালে ম্যাচ পরিত্যাগকারী’ হিসেবে গণ্য করে রায় দিয়েছে তাদের আপিল বোর্ড। সেই সঙ্গে ম্যাচের ফল মরক্কোকে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মূলত মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের (এফআরএমএফ) করা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাফ। যদিও এর আগে প্রাথমিক শুননাতি দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ওপর ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করে ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত রেখেছিল আফ্রিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু এবার সেই ফল উল্টেই গেল মরক্কোর দিকে।
কাফ জানিয়েছে, ওই ওয়াকআউটের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নিয়মের ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে সেনেগাল। এতে দলটির ওপর ৮৪ নম্বর অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়েছে। আলোচিত ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘যদি কোনো দল কোনো কারণে প্রতিযোগিতা থেকে সরে যায়, ম্যাচে উপস্থিত না হয়, খেলতে অস্বীকার করে বা রেফারির অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছেড়ে যায়, তবে তাকে পরাজিত ধরা হবে এবং বর্তমান প্রতিযোগিতা থেকে দলটিকে বাদ দেওয়া হবে।’
৮৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ ভাঙলে সংশ্লিষ্ট দল স্থায়ীভাবে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কৃত হবে এবং ম্যাচটি ৩–০ ব্যবধানে হেরে গেছে বলে গণ্য হবে।
কাফের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৭৬ সালের পর, দীর্ঘ ৫০ বছরের খরা কাটিয়ে আফকনের শিরোপা জিতল মরোক্কা।
তবে কাফের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে সেনেগালের। দলটির জন্য এখন একমাত্র ভরসা সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস)- আপিল করা। কিন্তু সমস্যা হলো, সেনেগাল যদি সিএএসে আপিল করে, সেই রায় পেতে প্রায় এক বছরের মতো সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপও শেষ হয়ে যাবে।



