গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলেছিলেন বেনফিকার আর্জেন্টাইন তারকা ইয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি। ভিনিসিয়ুস তখনই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। এমনকি মাঠ ছেড়েও চলে যাচ্ছিলেন প্রায়। ব্রাজিলিয়ান তারকা অভিযোগ তোলেন, তাঁকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন প্রেসতিয়ান্নি।
ওই ঘটনার তদন্তের পর গতকাল শুক্রবার প্রেসতিয়ান্নিকে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উয়েফা। ভিনিসিয়ুসকে উদ্দেশ্য করে সমকামীবিদ্বেষী মন্তব্যের দায়ে আর্জেন্টাইন তারকাকে এ শাস্তি দেয় ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এর মধ্যে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসতিয়ান্নি যে এক ম্যাচ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ছিলেন, সেটিও অন্তর্ভুক্ত আছে। ফলে স্থগিত থাকা শাস্তি কোনো কারণে কার্যকর না হলে, প্রেসতিয়ান্নিকে আর মাত্র দুই ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
আলোচিত ঘটনাটি গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে ওঠার প্লে-অফের। বেনফিকার বিপক্ষে ৫০ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে উদযাপন করতে যান ভিনিসিয়ুস। সে সময় ব্রাজিলিয়ান তারকার মুখোমুখি হন প্রেসতিয়ান্নি। এরপর জার্সি মুখে দিয়ে কিছু একটা বলেন।
ভিনিসিয়ুস এ সময় রেফারির দিকে দৌড়ে গিয়ে অভিযোগ জানান। রেফারি হাত আড়াআড়ি করে সংকেত দেন। যা বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ওই ঘটনায় খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ ছিল। এমনকি রেয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
ম্যাচের পর কিলিয়ান এমবাপ্পে জানান, ভিনিকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচবার ‘বানর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসতিয়ান্নি। তবে ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, প্রেসতিয়ান্নি তাঁর জবানবন্দিতে ভিনিকে স্প্যানিশ ভাষায় সমকামীবিদ্বেষী একটি শব্দ বলেছেন। কিন্তু সেটা ‘মোনো’ বা ‘বানর’ শব্দ নয়।
উয়েফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী আচরণের জন্য শাস্তির কাঠামো একই।’
বিধিতে উল্লেখ আছে, ‘যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি কারও মানবিক মর্যাদাকে আঘাত করে— সেটা ত্বকের রং, জাতি, ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ বা যৌন অভিমুখিতা যেকোনো কারণে হোক— তাহলে অন্তত ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শাস্তি, কিংবা অন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটির তদন্তে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিল উয়েফা। ওই তদন্ত শেষে শুক্রবার উয়েফা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, প্রেস্টিয়ান্নির আচরণ বর্ণবাদী নয়, বরং সমকামীবিদ্বেষী ছিল। যার শাস্তি হিসেবে ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকাকে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার রায় দেয় উয়েফা।
এই ছয় ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচের সাজা স্থগিত, এক ম্যাচ পার হয়েছে। বাকি থাকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। উয়েফা জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ফিফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে তারা। আর সেটা যদি হয়, ইউরোপা লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে!



