রম্য রচনা

‘ইনবক্সে আসুন’ নাকি ‘ইনবক্সে বসুন’?

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১০:১৮ পিএম

সব কথা সব সময় প্রকাশ্যে বলা যায় না। আবার হয়তোবা যায়, কিন্তু মানুষই চায় না বলতে। তখন প্রয়োজন হয় একটু আড়ালের, কেউ ডাকে একটু তফাতে। কারও থাকে গোপন আলাপ, কারও আবার থাকে শুধুই প্রলাপ। কেউ কেউ অবশ্য টুপিও পরাতে চায়! কারণ ওয়ান টু ওয়ান আলাপে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া যায় সহজে।

এসব থেকেই শুরু নতুন বাহাস। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন বিতর্ক উঠেছে। বলা হচ্ছে বা প্রকারান্তরে কেউ কেউ দাবি করছেন, বেচাকেনার পেজে নাকি ‘ইনবক্সে আসুন’ বলা বেআইনি! অর্থাৎ, দাম জানতে চাইলে ক্রেতাকে নাকি ইনবক্সে আসতে বলা যাবে না। যদিও সংবাদমাধ্যমের খবর পড়ে যতটুকু বোঝা গেল যে, এ ধরনের বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে আইনে উল্লেখ নেই। তারপরও এ নিয়ে আলোচনা চলছেই।

ইনবক্সে আসা নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ হলো, কমেন্টে দাম জানিয়ে দিলে তাদের ইনবক্স ভারী হয় না। নইলে আবার মেসেঞ্জার বা হোয়্যাটসঅ্যাপে যেতে হয়, বক্সে আলাপ বাড়ে। নতুন থ্রেডও তৈরি হয়। বিক্রেতারা সেটাই চান, তাতে তাদের এনগেজমেন্ট বাড়ে। ফেসবুকে ব্যবসা করতে নেমে, জাকারবার্গের নিয়মেই তো চলতে হবে। নইলে কি আর পাত্তা মিলবে?

সব মিলিয়ে দুই পক্ষেই যুক্তি আছে, যার যার কারণও আছে। আর এসবের মধ্যেই তৃতীয় পক্ষ ঢুকে সুন্দর বিতর্ক তুলে দিল। দাবি করল ‘ইনবক্সে আসুন’ বলা বেআইনি। তা নিয়ে বাহাস হলো, কার্ড শেয়ার হলো দেদারসে। আর ঠিক এভাবেই সুযোগ বুঝে জাকারবার্গের নিয়ম মেনেই লাইক, শেয়ার, কমেন্ট কামিয়ে নেওয়া হলো! এ যেন দুই বন্ধুর মাঝখানে বাম হাত ঠেলে দেওয়া সেই তৃতীয় পক্ষ, যে কিনা দুই বন্ধুর মধ্যে ঝামেলা বাঁধিয়ে কামিয়ে নেয় অশেষ মুনাফা।

এ প্রসঙ্গে বীরবলের একটি গল্প বলা যায়। প্রচলিত আছে, সম্রাট আকবর একদিন বীরবলকে এক অদ্ভুত আদেশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর রাজ্যের সব বেকুব মানুষের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে। বীরবল ছিলেন অনুগত রাজকর্মচারী। তাই ‘যথা আজ্ঞা মহারাজা’ বলে সে তালিকা তৈরি করা শুরু করে দিল।

ক্যাঁচাল শুরু হলো এর পরই। কারণ সেই তালিকায় সবার ওপরে লেখা আছে সম্রাটের নাম। আর তা দেখেই বিষম রেগে গেলেন সম্রাট। জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার নাম সবার ওপরে কেন?’ তখন বীরবলের তাৎক্ষণিক উত্তর ছিল, ‘যে বেকুব খুঁজতে যায়, সে হলো সবচেয়ে বড় বেকুব!’

তো, আমাদের অবস্থাও অনেকটা তেমনই। ইনবক্সে যাওয়া ও না যাওয়া—উভয় পক্ষের মানুষই অন্যদের বেকুব ভেবে তৃতীয় পক্ষের কাছে বেকুব হয়ে গেল। এভাবে আমরা প্রায়শই বেকুব বনে যাই। কখনো বুঝি, আবার কখনো বুঝতেই পারি না। বেকুবের ধর্মই অবশ্য এটা!

প্রতীকী ছবিযাক গে। ইনবক্সে আসুন বলা নিয়ে বিতর্ক যখন দেখা দিয়েছেই, তখন চলুন বিকল্প কিছু খোঁজা যাক। আসার পরের বিষয়–আশয়ই নিয়ে আসতে হবে। এখন কাউকে ইনবক্সে এসে দাঁড়াতে বলা তো যায় না। হাজার হোক, আমরা অতিথিপরায়ণ জাতি। তার ওপর ব্যাপার যদি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়, তবে তো কথাই নেই। সুতরাং, ‘ইনবক্সে দাঁড়ান’ কথাটা বলাই যাবে না। এতে ব্যবসাও যেমন লাটে উঠবে, তেমনি অভদ্র গালিও খেতে হতে পারে। আর সব মানুষই ভালো নয়। কে কীভাবে নেয়, কে জানে!

তাহলে কি ‘ইনবক্সে বসুন’ বলা যাবে? দেখুন, এই বিকল্প প্রস্তাব কিন্তু মন্দ নয়। এতে অতিথিকে সম্মান করাও হলো, আবার ক্রেতাকে একটু তোয়াজও করা গেল। সেক্ষেত্রে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে বা হোয়্যাটসঅ্যাপে ইনস্ট্যান্ট মেসেজ হিসেবে শুরুতেই একটি টুলের ছবি দিয়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ, ইনবক্সে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে যেন টুল পেয়ে যান একজন ক্রেতা। ফুলের স্টিকারও দিয়ে রাখা যায় কমপ্লিমেন্ট হিসেবে। আর আলাপচারিতার পর যদি উপহার হিসেবে পরিবেশ রক্ষাকারী গাছের স্টিকার দেওয়া যায়, তবে তো মার ডালা!

সুতরাং, আজ থেকে না হয় ‘ইনবক্সে আসুন’ বলা বন্ধ করে ফেলুন। এর বদলে চালু হোক—‘ইনবক্সে বসুন’। এতে বিতর্কও কমবে, আবার নতুন এক ধরনের বসাবসির সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। তাতে হৃদ্যতা বাড়তেও পারে। আর কে না জানে, বাঙালি একবার বসে গেলে, তাকে দাঁড় করানো খুবই কঠিন!

এক পরকীয়া প্রেমের কাহিনীকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ভাইরাল এই ভিডিও’র প্রেক্ষাপট। জানা গেছে, ভিডিওতে দেখানো বহুতল ভবনটির ১০ তলায় বিবাহিত প্রেমিকের সাথে একান্তে ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছিলেন এই নারী।...
একেবারে গাছের মাথায় গিয়ে বসে থাকেন তিনি। নিচ থেকে সবাই নেমে আসার অনুরোধ করলেও রাজি হন না। বরং গাছ থেকে একের পর এক ডাব ছুড়তে থাকেন নিচের ভিড়ের দিকে। 
ভারতের কর্ণাটকের শিমোগা জেলার এক ব্যক্তি অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলেছেন। ওই ব্যক্তির দাবি, ভাত-রুটি, শাকসবজি কিংবা ফলমূল কিছুই খান না তিনি। প্রতিদিন কেবল সাত থেকে আট লিটার...
ফুচকা পছন্দ করেন না এমন মানুষ কমই আছে। তাই বলে ফুচকার জন্য মাঝরাস্তায় বসে কান্নাকাটি! অবাক করা এই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ভারতের...
হবিগঞ্জে পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূল হোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জে র‍্যাব-৯-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব কর্মকর্তারা।
বেলুচিস্তানের খোজদার জেলার জিদিতে চালানো এক অভিযানে ১৯ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বেলুচিস্তান পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর