পৃথিবীটাই এমন! কেউ ফান্দে পড়লেই চারদিক থেকে সবাই কামড়ে ধরে। অনেকে টিপ্প্নি কেটে বলে, ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে…। এই যেমন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এখন সবাই কত মজা নিচ্ছে। এমন নিষ্ঠুর কেন মানুষ – এই প্রশ্নটি কিন্তু ট্রাম্পের মনে জাগতেই পারে। এবং তেমনটা জেগেছেও!
ঝামেলা বেঁধেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার নিয়ে। এবার তাঁকে শ্রীঘরে থাকতে হয়েছে ২০ মিনিটের মতো। জর্জিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার মামলায় স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে নিয়ম অনুযায়ী মাগশট তোলা হয় ট্রাম্পের। এরপর থেকেই সেই মাগশট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এ নিয়ে অনেকে ট্রোলও করছেন।
এমনকি ট্রাম্পকে নিয়ে খোঁচা মারছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। গ্রেপ্তারের পর তোলা মাগশট সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প নাকি বেশ হ্যান্ডসাম। বুঝুন অবস্থা! এভাবে কেউ বলে, বলুন? হাজার হোক ছবি তোলা বলে কথা। ট্রাম্প একটু স্নো-পাউডার তো মাখতেই পারেন। তাই বলে এভাবে খোঁচা দিতে হবে? এই কি মার্কিন মুলুকের রাজনৈতিক শিষ্টাচার?
আর বঙ্গদেশে প্রচলিত আছে - কানাকে কানা বলতে নেই, খোঁড়াকে খোঁড়া বলতে নেই। তাহলে হ্যান্ডসাম লাগলেই কি হ্যান্ডসাম বলতে হবে? স্থান-কাল-পাত্র কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হবে না? বাংলা থেকেও তো ট্রাম্পবিরোধীরা শিক্ষা নিতে পারত। নাকি ভিনগ্রহের এলিয়েনদের মতো সুশিক্ষা শুধু আমেরিকাতেই মেলে?
এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘আঞ্চলিক ট্রাম্প কার্ড সংরক্ষণ সংস্থা’। কথিত টেলিগ্রামে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেছে, ট্রাম্পকে নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে। ট্রাম্প ছেলে বলেই, তাঁকে নিয়ে খেলতে হবে – এমন কোনো কথা নেই। কেউ কেউ তাঁকে ‘থর’ অভিনেতা ক্রিস হেমসওয়ার্থের সঙ্গে তুলনা করে মিম প্রকাশ করছেন। আঞ্চলিক ট্রাম্প কার্ড সংরক্ষণ সংস্থার মতে, এই তুলনাটি অযৌক্তিক ও অসম। ট্রাম্পের মতো ‘থর’ কি দুইবার জেলের ঘানি টেনেছেন? নাকি ‘থর’ যৌন কেলেঙ্কারি ঢাকতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে নাকানিচুবানি খেয়েছেন? এসব মিল প্রমাণ করতে না পারলে, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর তুলনা করার কোনো মানে নেই।
ট্রাম্পপন্থীদের অভিযোগ, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাফল্যে ও সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই এসব ট্রোল ও মিম ছড়ানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পপ্রেমীরা আহ্বান জানিয়েছেন পাল্টা মিম ছড়ানোর। তাদের মুখে শুধু একটাই কথা – ‘কি, হিংসে হয়? ট্রাম্পের মতো হতে চাও?’ ট্রাম্পের সমর্থকেরা অবশ্য তাদের নিজস্ব ভাষাতেই (ইংরেজিসহ অন্যান্য) এই কথা বলছেন। তবে ভাষা ভিন্ন হলেও, ভাব একই।
এদিকে এমন হুলুস্থুলের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ‘সরস টিম’। তবে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। শেষে শুরু হয় টেলিপ্যাথিক সিস্টেমে যোগাযোগের চেষ্টা। এতে কিছুটা হলেও কাজ হয়। তবে অনুভূতি জানতে চেয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি প্রথমে ফেলেন এক সুগভীর দীর্ঘশ্বাস। এরপর যা বলেন, বাংলায় অনুবাদ করলে তার মর্মার্থ দাঁড়ায় – ‘আজ আমি গরিব বলে…!’
অবশ্য এই গরিবিয়ানা বলতে ট্রাম্প আদতে কী বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট হয়নি। টেলিপ্যাথিক সিস্টেমে বার বার নক করা সত্ত্বেও তিনি আর ব্যাখ্যা দেননি। অর্থাৎ, এই গরিবী মানের নাকি ধনের, তা পরিষ্কার করেননি। তবে ট্রাম্পের আফসোসের বিষয়টি ছিল দিনের আলোর মতোই ফকফকা।
ট্রাম্পের গর্তে পড়ার খবরে রঙিলা জনগণের এরূপ নিদারুণ কাজকারবারে বিশ্ববিবেকের কাছে উঠে যাচ্ছে একটি জ্বলজ্বলে প্রশ্ন। তা হলো – ট্রাম্প কি মন্দিরের ঘণ্টা, যে চান্স পেলেই বাজাতে হবে? আর বাজাতে হলেই কি এত জোরে জোরে বাজাতে হবে?
সচেতন নাগরিকদের প্রতি তাই রইল সহানুভূতিতে ভেসে যাওয়ার আরজি। মারার ইচ্ছে বেশি হলে, মারুন। তবে এভাবে মারবেন না প্লিজ!



