মাত্র ৩৩ বছর বয়সে যুক্তরাজ্য ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। পুরুষের পোশাকে চষে বেরিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের পথ-ঘাট। সঙ্গে থাকত তরবারি, চড়তেন ঘোড়ায়। প্রথম ইউরোপীয় নারী হিসেবে সিরিয়ার মরুভূমি অতিক্রম করে ‘মরুভূমির রাণী' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। নাম তাঁর লেডি হেস্টার স্ট্যানহোপ।
১৭৭৬ সালে ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর একটিতে তাঁর জন্ম। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট ছিলেন লেডি হেস্টার স্ট্যানহোপের আত্মীয়। ১৮০৩ থেকে ১৮০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লন্ডনের ওয়ালমার ক্যাসেলেই থাকতেন।
কিন্তু কয়েক বছর বাদে অভিজাত ইংরেজ সমাজের বিধিনিষেধে বিরক্ত হয়ে লেডি হেস্টার মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকা পরিভ্রমণ করতে শুরু করেন তিনি, নারী অভিযাত্রীদের মধ্যে হয়ে ওঠেন বিখ্যাত।
ধীরে ধীরে লেবাননে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করেন হেস্টার। এ পরিবর্তন তাঁর জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু ইংল্যান্ডের মতো এখানেও সমাজের গৎবাঁধা বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেকে একজন প্রত্নতাত্ত্বিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন লেডি হেস্টার স্ট্যানহোপ। ঐ অঞ্চলে আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক চর্চার পথিকৃৎ হিসেবে হেস্টার স্ট্যানহোপের নামই বলা হয়ে থাকে।
লেবানন, সিরিয়া, মিশরের পাশাপাশি গিয়েছেন গ্রিস, তুরস্ক, ফ্রান্স, জার্মানিতেও। মিশর যাওয়ার সময় পুরোটা পথ হেস্টারের গায়ে ছিল স্থানীয় পুরুষের পোশাক; সঙ্গে বহন করেছেন তরবারি, চড়েছেন আরব ঘোড়ায়। নিজের ভ্রমণের এসব তথ্য নিজেই লিপিবদ্ধ করে গেছেন দুঃসাহসী এই অভিযাত্রিক।
তথ্যসূত্র: ইংলিশ হেরিটেজ



