জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এ দাবিতে আজ শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, আন্দোলন সম্পাদক ও বেলাবো জেলা শাখার সভাপতি রাবেয়া খাতুন শান্তি, প্রশিক্ষণ, সম্পাদক, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি রীনা আহমেদ, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও টঙ্গী জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ারা বেগম এবং নারী শ্রমিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জাতীয় পরিষদ সদস্য সাহিদা পারভীন শিখা।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নারী আন্দোলন সমাজের আন্দোলন, সমাজ আমাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, সমাজকে সাথে নিয়েই আমরা আমাদের দাবি আদায়ে এগিয়ে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি সংসদে নারীর সরাসরি নির্বাচনের দাবি মানুষের কাছে একদিন গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কাউকে পেছনে রেখে গণতন্ত্র অগ্রসর করা যায় না, তাই নারী সমাজের দাবি সংসদে নারীর এক তৃতীয়াংশ আসন বৃদ্ধি করতে হবে এবং সরাসরি নির্বাচন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চাৎদপদ অংশকে এগিয়ে নিতে সুযোগ প্রয়োজন, নারীকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী আন্দোলনের দাবিকে গুরুত্ব দিতে হবে, মানুষের কণ্ঠস্বরকে বুঝতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে নারীদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া নারী সমাজকে কোনো ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না, তারা নিজ অধিকার আদায়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে এদেশের নারী সমাজের বহুমুখী অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত হয়। স্বাধীন দেশে সংবিধানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অন্য সকলের সাথে সমান অধিকার নিশ্চিত এবং নারীসহ পশ্চাতপদ জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক নারী রাজনীতিতে আসলেও তারা সংসদে আসেন মনোনীত হয়ে, ফলে তারা তাদের রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকেন। আজকে আমাদের জোর দাবি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নারীকে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীদের মনোনয়নের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হওয়ার পদ্ধতিকে প্রত্যাখান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন রাজনৈতিক দলগুলোকে ভাবতে হবে তারা কিভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন করবে এবং সমতা প্রতিষ্ঠা করবে। এ বিষয়ে কেবল রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে।’
আন্দোলন সম্পাদক ও বেলাবো জেলা শাখার সভাপতি রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, ‘জন্মসূত্রে মানুষ স্বাধীন, সার্বজনীন মানবাধিকারের আদর্শকে ধারণ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাজ করছে, নারী আন্দোলন বৃথা যায়নি। আজকের নারীর সিদ্ধান্তগ্রহণ ও পালনের সক্ষমতা নারী আন্দোলনের ফসল। আজ মানবিক বিপর্যয় চরমে, এমতাবস্থায় নারীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংসদে এক তৃতীয়াংশ নারী আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ সরাসরি নির্বাচনে গুরুত্ব দিতে হবে।’
বক্তব্য শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ ও র্যালিতে গণসাক্ষরতা অভিযান, কর্মজীবী নারী এবং নারী শ্রমিক কেন্দ্রের প্রতিনিধিবৃন্দ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, টঙ্গী, বেলাবো ও নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠকবৃন্দ, কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।



