মহিলা পরিষদ নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে দেখেছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান থাকলেও সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এর ফলে ক্ষমতার কাঠামোয় নারীর অবস্থান নিম্নমুখী হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ সমাজ স্বীকার করলেও নারীর অংশীদারিত্বকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়। প্রচলিত সামাজিক বৈষম্য দূর করতে জেন্ডার সমতাপূর্ণ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ‘জেন্ডার,নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক কোর্সের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ কোর্সের বিষয়বস্তু জেন্ডারগত ধারণাকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘জেন্ডার,নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্সের ১৫তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপপরিষদের উদ্যোগে এই অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে মাইলস্টোন কলেজে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, কোর্স কারিকুলাম সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন কোর্স পরিচালক ও সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘সমাজ পরিবর্তনে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীর অধিকারকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা চলছে। তবে, সমাজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। এই সচেতনতাকে ধরে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে আসছে। এ আন্দোলন করতে গিয়ে দেখা গেছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান থাকলেও সমাজের নারীর প্রতি বৈষম্য মূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে। প্রচলিত জেন্ডার বৈষম্য নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা তৈরি করছে। সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, আইন ও প্রথা কীভাবে জেন্ডার বৈষম্য তৈরি করছে– এই বিষয়গুলো ‘জেন্ডার,নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক কোর্সটির বিষয়বস্তু। কোর্সটি সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা সমাজে নারী-পুরুষের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন।
অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৩১জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রীনা আহমেদ।
উল্লেখ্য, এবারের অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্সে কোর্স শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ, আইনবিদ, মানবাধিকার নেত্রী এবং মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তিন মাসব্যাপী এ কোর্সের (২৪ জুলাই থেকে ৩০ অক্টোবর) ক্লাস প্রতি সপ্তাহে বৃহঃস্পতিবার ও শনিবার (০২ দিন) বিকাল ৪.০০মি: হতে সন্ধ্যা ৭.০০ মি: পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।



