২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন তিনজন। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শেষ হলো।
অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার অর্জনকারীরা হলেন- আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোয়েল মোকিয়র, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক ফিলিপ আগিয়োঁ ও আমেরিকার ব্রাউন ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক পিটার হাউইট।
প্রথা অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সোমবার হিসেবে গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ৩ বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন– মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও শিমন সাগাগুচি।
এরপর ৭ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৫ সালে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী– জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ. ডেভোরেট ও জন এম মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক সার্কিটে ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং শক্তি পরিমাপ আবিষ্কারের জন্য তাদের মনোনীত করা হয়।
রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় ৮ অক্টোবর। এ বছর যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড রবসন ও আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমর এম. ইয়াঘি। ধাতু-জৈব কাঠামোর উদ্ভাবনের জন্য তাদের মনোনীত করা হয়।
৯ অক্টোবর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। মনোমুগ্ধকর এবং দুরদর্শী রচনার জন্য ২০২৫ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসজলো ক্রাসনাহোরকাই।
১০ অক্টোবর ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কার অর্জনকারী হিসেবে ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নাম ঘোষণা করে কমিটি। ভেনিজুয়েলার সাধারণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার আন্দোলনের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে।
নোবেল পুরস্কারগুলো সুইডেনের বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তাঁর রেখে যাওয়া অর্থ থেকে দেওয়া হয়। সুইডিশ শিল্পপতি নোবেল ডিনামাইটের উদ্ভাবক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর পর ১৯০১ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও সম্মানজনক এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে আলফ্রেড নোবেলের উইলে পাঁচটি বিষয়ে পুরস্কারের কথা থাকলেও অর্থনীতিতে পুরস্কার দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল না।
আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থনীতির পুরস্কারটি ‘সোশ্যাল সায়েন্সে ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার’ নামে পরিচিত। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই পুরস্কারটি চালু করে।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোম ও অসলোতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে। এ সময় প্রতি বিষয়ের বিজয়ীদের হাতে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার চেক, একটি মানপত্র ও একটি স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হবে। ২০২৩ সালে সুইডিশ ক্রোনারের মূল্যস্ফীতির কারণে প্রাইজ মানির পরিমাণ ১০ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১১ মিলিয়ন ক্রোনা করা হয়।



