পনেরো বছর আগে তিউনিসিয়ার এক ফলবিক্রেতার আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক ‘আরব বসন্ত’। এই বিপ্লব পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, তিউনিসিয়া এখন আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের মুখোমুখি। ২০২১ সালে কাইস সাইদ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রাষ্ট্রের অধিকাংশ ক্ষমতা নিজের কুক্ষিগত করেছেন।
সময়টা ২০১০ সালের শেষ দিক। দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন, বেকারত্ব, দুর্নীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং সামাজিক বৈষম্যের ক্ষোভে ফুঁসছিল উত্তর আফ্রিকার ছোট দেশ তিউনিসিয়া। এর প্রতিবাদে দেশটির এক ফলবিক্রেতা মোহাম্মদ বুয়াজিজি নিজ শহরের রাস্তায় গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মাহুতি দেন।
এই ঘটনার পরই দেশটিতে শুরু হয় তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন। পরবর্তীতে এই বিপ্লব তিউনিসিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে ‘আরব বসন্ত’ নামে ছড়িয়ে পড়ে লিবিয়া, মিসর, সিরিয়া ও ইয়েমেনে। বদলে যায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা।
তবে বুয়াজিজির আত্মদানে জন্ম নেওয়া আরব বসন্ত শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের সুবাতাস ছড়াতে পারেনি। বর্তমানে সেই অর্জনের বড় অংশই মুছে গেছে। পনেরো বছর আগের সেই বিপ্লব এখন রক্তক্ষয়, বিশৃঙ্খলা কিংবা কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রত্যাবর্তনে গিয়ে ঠেকেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল তিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা। তবে ২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের নাটকীয় ক্ষমতা দখলের পর দেশটির রাজনৈতিক চিত্র আমূল বদলে যায়। শুরু হয় নতুন এক কঠোর শাসনব্যবস্থা।
পরবর্তী বছরগুলোতে দেশটির সংসদ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া ছাড়াও সংবিধান পুনর্লিখন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে আবারও সংসদের অধিবেশন শুরু করেন সাইদ। যদিও বুয়াজিজির আত্মদানের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় সব পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তাঁর।
একই সঙ্গে সমালোচক ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন দমন-পীড়ন চালিয়েছেন তিনি। সাইদের বিরোধীরা একে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যা দেন। এমনকি সম্প্রতি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভও করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে সমাবেশ করেছেন সাইদ সমর্থকরাও।
বর্তমানে তিউনিসিয়ার সংসদ কার্যত প্রেসিডেন্টের জন্য কোনো হুমকি নয়। ২০২২ সালের সংশোধিত সংবিধানে সংসদের ক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগও এখন নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে। ২০২২ সালে রায় পছন্দমতো না হওয়ায় একযোগে ৫৭ জন বিচারককে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট সাইদ।



