মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতি। মে মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। মাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। নিউইয়র্কের বাসিন্দারা বলছেন, বাড়িভাড়া, যাতায়াত ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে।
শুধু কর্মজীবীরাই নন, মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও। অনেককে বাড়িভাড়া, যাতায়াত ব্যয় ও উচ্চশিক্ষার খরচের মধ্যে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
এদিকে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ভোক্তাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। সাশ্রয়ের জন্য অনেকেই এখন ছাড়, কুপন ও কম খরচের বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
তবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মূল্যস্ফীতিকে ভালোবাসি।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরান যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে আসবে।
শ্রম দপ্তরের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। এপ্রিলে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মার্চে ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। মাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করলেও বর্তমানে সব ধরনের মূল্যস্ফীতির সূচকই সেই লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।
মে মাসে প্রকৃত গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এপ্রিলে এই হার কমেছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় ভোক্তা ব্যয় সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও পড়তে পারে।



