আমেরিকায় ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের জয় তুলে নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালের অবশিষ্ট দুই বছরের দেশ শাসনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকানরা। নির্বাচনে বিজয়ী সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ফল মেনে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তরের এক যুগান্তকারী ইতিহাসের সাক্ষী হলো আমেরিকা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ওয়াশিংটনে ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের ফলাফলকে অ্যামেরিকান কামব্যাক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজ। দলীয় অনুমোদন পেলে তিনিই হতে যাচ্ছেন মার্কিন ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হাউজ স্পিকার।
এবার নির্বাচনের আরেক মাইলফলক গড়েছে মিশিগান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডক্টর আবদুল আল-সায়েদ।
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর আব্দুল আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আপনি যদি ফিলিস্তিনি শিশুদের বাঁচার অধিকারে বিশ্বাস করেন, তবে অনেকেই আপনার সঙ্গে বিদ্বেষ করবে। আমাদের করের টাকা আমরা কোন নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে খরচ করব না। বর্ণবাদ, গণহত্যা বা যুদ্ধের পেছনে ব্যবহার করবো না।আমরা আমাদের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা আর অবকাঠামোর উন্নয়ন করবো।’
পাশাপাশি নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান ঘাঁটি ছিনিয়ে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী করেছেন সাবেক গভর্নর রয় কুপার। জর্জিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন আরেক ডেমোক্র্যাট নেত্রী কেইশা ল্যান্স বটমস।
নির্বাচনের এমন বিপর্যয়ের পর সুর নরম করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্রেটদের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণার প্রশংসা করেন তিনি। ফলাফল মেনে নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ভেটো দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প জানান, কংগ্রেসে হোয়াইট হাউজের প্রভাবকে সমুন্নত রাখতে পিছপা হবেন না তিনি।


