এক ঘণ্টার জন্য স্পেনের ছোট্ট শহর বুনিওল হয়ে উঠেছিল এক বিশাল টমেটো যুদ্ধের ময়দান। লা টোমাটিনার উৎসবময় এ রণক্ষেত্রে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ২২ হাজার মানুষ। এবারের উৎসবে ব্যবহার হয়েছে দেড় শ টনের বেশি টমেটো। ১৯৪৫ সালে স্থানীয়দের আকস্মিক এক ঝগড়া থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন এখন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উৎসব।
টমেটো নিয়ে ট্রাক উৎসবের মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় উল্লাস। ট্রাক থেকে নিচের হাজারো জনতার দিকে ছুড়ে দেওয়া হয় একের পর এক টমেটো। আর সেই টমেটো কুড়িয়ে নিয়ে শুরু পাল্টা আক্রমণ। মুহূর্তেই পুরো এলাকা পরিণত হয় টমেটোর রণক্ষেত্রে।
স্পেনের ছোট্ট শহর বুনিওলের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উৎসবে অংশ নেন জাপান, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকেরা। এবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।
এবার ১৫০ টনের বেশি পাকা নরম টমেটো একে অপরের দিকে ছুড়ে মেরে পুরো শহরকে লাল রঙে রাঙিয়ে তোলেন তাঁরা।
অংশগ্রহণকারীদের একজন বলেন, ‘এটা অসাধারণ ছিল। আমরা এই দিনের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে এত দূর এসেছি। এটা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’
আরেকজন বলেন, ‘এটা সত্যিই একটা লড়াই ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। মনে হয় আমরাই জিতেছি!’
সাদা পোশাক পরা অংশগ্রহণকারীদের জামাকাপড় গোলাপি ও লালে রঞ্জিত হয়। টমেটো ছোড়ার পাশাপাশি চলে উল্লাস, নাচ-গান আর ছবি তোলার প্রতিযোগিতা। একসময় পুরো রাস্তা ঢেকে যায় টমেটোর পাল্পে।
টমেটো ছোড়ার আগে সেটি চেপে নরম করে নিতে হয় অংশগ্রহণকারীদের, যাতে কেউ আহত না হয়।
একজন আয়োজক বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো অংশ হলো ট্রাকগুলো চলে যাওয়ার পর মাটিতে শুয়ে পড়া, এতে অভিজ্ঞতাটা পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।’
১৯৪৫ সালে বুনিওলের স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি আকস্মিক হাতাহাতি থেকেই শুরু হয়েছিল এই টমেটো যুদ্ধ। পরে তা রূপ নেয় স্পেনের বার্ষিক উৎসবে।



