চলতি বছরে ভারতে অনুষ্ঠিত লোকসভার নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান অস্ত্র ছিল ‘ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য’। তিনি তাঁর নির্বাচনী সভাগুলোতে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবলীলায় ঘৃণাভরা বক্তব্য দিতেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউমান রাইটস ওয়াচ গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ তুলেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গত ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণায় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবিবার বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছে। যদিও ওই নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়েছে বিজেপি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি বেশ কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় ধ্বংস করেছে। এমনকি নির্বাচনের পরেও বিজেপি এসব বেআইনি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত সারা দেশে ২৮টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় ১২ জন মুসলিম পুরুষ ও এক খ্রিস্টান নারীর মৃত্যুর কথা জানা গেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপি নেতারা তাদের বক্তৃতায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্লজ্জভাবে মিথ্যাচার করেছেন। তাদের বক্তৃতাগুলো সংখ্যালঘু মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে গত এক দশক ধরে চলা নির্যাতন ও নিপীড়নকেই বরং বৈধতা দিয়েছে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, তারা ১৬ মার্চ নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর মোদির ১৭৩টি নির্বাচনী প্রচারণামূলক বক্তব্য বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে অন্তত ১১০টি বক্তৃতায় তিনি ‘ইসলামোফোবিক’ মন্তব্য করেছেন। সন্দেহ নেই, ওই বক্তব্যগুলো তিনি হিন্দুদের মধ্যে মুসলিমভীতি তৈরি করার জন্যই দিয়েছিলেন।
তবে নরেন্দ্র মোদি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নই। এটা আমাদের প্রচারের মূল লক্ষ্যও নয়। যেদিন আমি হিন্দু-মুসলিম নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া শুরু করব, সেদিনই জনগণ আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।’
তবে মোদি এসব দাবি করলেও তাঁর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি নিয়মিত মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ভয় সৃষ্টি করেছিলেন যে, বিরোধীরা যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে মুসলিমরা হিন্দুদের সম্পদ, জমি, ঘরবাড়ি, উপাসনালয়—সবকিছু ধ্বংস করে ফেলবে।



