কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশের ‘জেনারেশন জেড বা জেন জি’ (যারা ১৯৯৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন) সংবিধান রক্ষা করবে, গণতন্ত্র রক্ষা করবে এবং ভোট চুরি বন্ধ করবে। এরপরই ক্ষমতাসীন বিজেপি এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ কটাক্ষ করে বলেন, এটা ‘ভোট চুরির’ ব্যাপার নয়, বরং রাহুলের ‘মস্তিষ্ক চুরি’ হয়েছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে এবং এর পেছনে ‘কেউ’ একজন জড়িত।
তিনি বলেন, এর পেছনে ১০০ শতাংশ প্রমাণ রয়েছে এবং এই বিষয়ে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে জবাব চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে রাহুল লেখেন, ‘দেশের তরুণ, দেশের ছাত্র, দেশের জেনারেশন জেড সংবিধান রক্ষা করবে, গণতন্ত্র রক্ষা করবে এবং ভোট চুরি বন্ধ করবে। আমি সবসময় তাদের পাশে আছি। জয় হিন্দ!’
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবে। তিনি বলেন, ‘জেনারেশন জেড পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে’, যা কংগ্রেস নেতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত। দুবে এক্সে লেখেন, ‘জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, সোনিয়া গান্ধীর পর তারা কেন রাহুলকে সহ্য করবে? তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কেন তারা আপনাকে তাড়িয়ে দেবে না? তারা বাংলাদেশে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র এবং নেপালে একটি হিন্দু রাষ্ট্র চায়, তাহলে কেন তারা ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানাবে না? দেশ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হন, তারা আসছে।’
নিশিকান্ত দুবে পরে এএনআই সংবাদ সংস্থাকে বলেন, রাহুল গান্ধী নেপাল ও বাংলাদেশের ঘটনার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে চান। তিনি বলেন, উভয় স্থানেই জেনারেশন জেড পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিল। দুবে আরও বলেন, বাংলাদেশের জেনারেশন জেড ইসলামিক রাষ্ট্র চেয়েছে, আর নেপালের জেনারেশন জেড হিন্দু রাষ্ট্র চায়। তিনি রাহুল গান্ধীকে দেশে গৃহযুদ্ধ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীর দাদা জওহরলাল নেহেরু গৃহযুদ্ধ ব্যবহার করে দেশভাগ করেছিলেন এবং রাহুল এখন সোরোস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করে দেশকে ভাগ করতে চাইছেন।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এটি ভোট চুরির বিষয় নয়, রাহুল গান্ধীর মস্তিষ্ক চুরি হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, জেনারেশন জেডকে একটি সাংবিধানিক সরকারকে উৎখাত করার কথা বলে রাহুল গান্ধী নিজেকে ‘শহুরে মাওবাদী’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, তাঁর অভিযোগ ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’। কমিশন ব্যাখ্যা করে যে, রাহুল গান্ধী যেমনটা ভেবেছেন, কোনো ব্যক্তি অনলাইনে কোনো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে না।



